ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামীর ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে সাগরিকা খাতুন ওরফে বুলবুলি নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর রোববার ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী শিমুল মিয়া এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে। নিহত গৃহবধূর মরদেহটি ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও পারিবারিক বিরোধের প্রেক্ষাপট
স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পেশায় দিনমজুর শিমুল মিয়ার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ৩০ বছর বয়সী সাগরিকা খাতুনের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বনিবনা না হওয়ার কারণে সাগরিকা খাতুন বেশ কিছুদিন যাবৎ স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী করিমপুর গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে স্বামী শিমুল মিয়া নানা বুঝিয়ে সাগরিকাকে আবারও বাবার বাড়ি থেকে ঘোড়ামারা গ্রামে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
কিন্তু বাড়ি ফিরিয়ে আনার পরও তাদের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক ও পারিবারিক কলহের অবসান ঘটেনি। গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সেই পারিবারিক বিরোধ চরম রূপ ধারণ করে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী শিমুল মিয়া ঘর থেকে ধারালো অস্ত্র এনে স্ত্রী সাগরিকার ওপর আচমকা আক্রমণ করে। সে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাগরিকার মাথা, হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে। ওই সময় সাগরিকার তীব্র চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় সাগরিকাকে উদ্ধার করে অবিলম্বে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাগরিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিচে নিহত গৃহবধূর পরিচয়, ঘটনার স্থান ও সময়ের বিবরণ ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| নিহতের নাম ও বয়স | অভিযুক্তের নাম ও পেশা | ঘটনার স্থান ও সময় | মৃত্যুর সময় ও স্থান | বর্তমান অবস্থা |
| সাগরিকা খাতুন ওরফে বুলবুলি (৩০ বছর) | শিমুল মিয়া (দিনমজুর) | ঘোড়ামারা গ্রাম, ঝিনাইদহ সদর (শনিবার মধ্যরাত) | ভোররাত ৪:০০ টা, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল | মরদেহ মর্গে, অভিযুক্ত স্বামী পলাতক |
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে একটি পূর্বপরিকল্পিত পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিক তদন্ত এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে যে, পারিবারিক দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি আরও জানান যে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষেই এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে। একই সাথে পলাতক অভিযুক্ত স্বামী শিমুল মিয়াকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান ও আইনি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
