শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে একজন যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর উত্তেজিত স্থানীয়রা এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। সোমবার সকালে উপজেলার মাদারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আশরাফুল ইসলাম (৩২)। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারপুর গ্রামের একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধটি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি ও উত্তেজনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন সকালে সেই বিরোধ আবারও তীব্র আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নূরুল আমিনের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে আশরাফুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে আশরাফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং গুরুতর আহত কয়েকজনকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত ও আহতদের প্রাথমিক তথ্য নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| শ্রেণি | সংখ্যা | স্থান |
|---|---|---|
| নিহত | ১ জন (আশরাফুল ইসলাম, ৩২) | মাদারপুর, শ্রীবরদী |
| আহত | অন্তত ১৫ জন | শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল |
| গুরুতর আহত | কয়েকজন | শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল |
ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিহত আশরাফুল ইসলামের স্বজন ও স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নূরুল আমিনের বাড়িতে হামলা চালান। পরে তারা ওই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে বাড়ির একাধিক কক্ষ ও আসবাবপত্র পুড়ে যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
