স্বর্ণ বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি শুধু অলংকার বা বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সীমিত কয়েকটি দেশের হাতে বিশ্বস্বর্ণ উৎপাদনের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ দশ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় চীন শীর্ষে অবস্থান করছে। এর পরই রয়েছে রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশও বৈশ্বিক উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শীর্ষ ১০ দেশের স্বর্ণ উৎপাদন (২০২৪)
| অবস্থান | দেশ | উৎপাদন (টন) |
|---|---|---|
| ১ | চীন | ৩৮০.২ |
| ২ | রাশিয়া | ৩৩০ |
| ৩ | অস্ট্রেলিয়া | ২৮৪ |
| ৪ | কানাডা | ২০২.১ |
| ৫ | যুক্তরাষ্ট্র | ১৫৮ |
| ৬ | ঘানা | ১৪০.৬ |
| ৭ | মেক্সিকো | ১৪০.৩ |
| ৮ | ইন্দোনেশিয়া | ১৪০.১ |
| ৯ | পেরু | ১৩৬.৯ |
| ১০ | উজবেকিস্তান | ১২৯.১ |
চীন দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ উৎপাদক দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির বিস্তৃত খনি অঞ্চল, উন্নত খনিজ পরিশোধন ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তা এ খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে দেশটি স্বর্ণের অন্যতম বড় ভোক্তাও।
রাশিয়া দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটির সাইবেরিয়া ও দূরপ্রাচ্যের বিস্তৃত খনি অঞ্চল স্বর্ণ উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। ভূরাজনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটি উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রেখেছে এবং স্বর্ণকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে।
অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় অবস্থানে আছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বৃহৎ খনি অঞ্চল দেশটির উৎপাদনের মূল উৎস। উন্নত প্রযুক্তি ও স্থিতিশীল নীতিমালা এই খাতকে শক্তিশালী করেছে।
কানাডা চতুর্থ এবং যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চম স্থানে রয়েছে। কানাডার অন্টারিও, কুইবেক ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়া অঞ্চলে বড় বড় খনি রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা ও আলাস্কা অঞ্চল প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
আফ্রিকার ঘানা ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে, যা মহাদেশটির মধ্যে সবচেয়ে বড় স্বর্ণ উৎপাদক দেশ। লাতিন আমেরিকার মেক্সিকো ও পেরুও বৈশ্বিক উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া ও মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তানও শীর্ষ দশে রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণের কারণে এই খাতের গুরুত্ব আরও বাড়ছে।
