চট্টগ্রামে বোনকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় ইছু মিয়া নামের এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ২৩ বছর পর রায় ঘোষণা করেছে আদালত। মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আককাস এই রায় দেন। আদালতের অফিস সহকারী মারুফ হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জামাল উদ্দিন এবং মোহাম্মদ এরশাদ। একই মামলায় মো. মনির, আলমগীর এবং রাশেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত ইছু মিয়া চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকার একটি মাছের আড়তে কাজ করতেন। এ সময় আসামি জামাল উদ্দিন ইছু মিয়ার বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে ইছু মিয়া সেই প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ শেখ মুজিব সড়কের বিসিক ভবনের পাশের একটি কবরস্থানের ঝোপ থেকে ইছু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তখন ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই কামাল উদ্দিন ডবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় প্রদান করে।
রায়ে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর এই মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো বলে আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য