পাবনার ঈশ্বরদীতে তীব্র গরমের মধ্যে লাগাতার লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিলের কারণে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। এই ক্ষোভের মুখে পড়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে দীর্ঘ চার ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এই হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
অবরুদ্ধ হওয়া ওই কর্মীর নাম আইনুল হোসেন। তিনি পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের মিটার রিডার হিসেবে কর্মরত আছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চরগড়গড়ি এলাকায় চরমে পৌঁছেছে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর ওপর অনেক গ্রাহককে অতিরিক্ত বা ‘ভূতুড়ে’ বিল পরিশোধের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
ঘটনার দিন বিকেলে চরগড়গড়ি এলাকায় মিটারের রিডিং নিতে যান আইনুল হোসেন। ঠিক সেই মুহূর্তেও এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা মিটার রিডারকে দেখতে পেয়ে ঘিরে ধরেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি এবং অতিরিক্ত বিলের কারণ জানতে চেয়ে তারা নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা আইনুল হোসেনকে একটি স্থানে আটকে রাখেন এবং পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে আসার দাবি জানান। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং এলাকাবাসী ওই মিটার রিডারকে ছেড়ে দেন।
ভুক্তভোগী মিটার রিডার আইনুল হোসেন জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের চরম কষ্টের বিষয়টি তিনি বুঝতে পেরেছেন। তবে এই সমস্যা শুধু একটি নির্দিষ্ট গ্রাম বা এলাকার নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক বিষয়। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিল লেখার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন।
এদিকে চরগড়গড়ি গ্রামের বাসিন্দা আকমল প্রামাণিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়ম এবং অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ইউপি সদস্য রুপবান খাতুন জানান, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রথিন্দ্রনাথ বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
মন্তব্য