স্মরণে বিপ্লবী ত্রিপুরা সেনগুপ্ত

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিযুগে আত্মত্যাগী বিপ্লবীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ত্রিপুরা সেনগুপ্ত। মাত্র কিশোর বয়সেই তিনি উপমহাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন এবং সশস্ত্র আন্দোলনের পথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯১৩ সালের ১২ মে, কুমিল্লায়। তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র সেনগুপ্ত। শৈশবকাল থেকেই তিনি দেশপ্রেম, সাহসিকতা এবং বিপ্লবী চিন্তাধারার পরিবেশে বড় হন। পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তাঁর মধ্যে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মানসিকতা গড়ে তোলে।

১৯২৯ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেস সম্মেলনে সুভাষচন্দ্র বসু সভাপতিত্ব করতে আসেন। ওই সম্মেলনে বিপ্লবী সূর্য সেন, অনন্ত সিংহ ও গণেশ ঘোষের সঙ্গে ত্রিপুরা সেনগুপ্ত ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের পরিকল্পনা নেতাজীর কাছে উপস্থাপন করেন। কংগ্রেসের অহিংস নীতির বাইরে গিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহের যে চিন্তা তারা তুলে ধরেন, তা তিনি নৈতিক সমর্থন প্রদান করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে তিনি সক্রিয়ভাবে বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সংঘটিত চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানে তিনি অংশগ্রহণ করেন। এই অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতির সময় টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল, যা তিনি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

অস্ত্রাগার দখলের মাত্র চার দিন পর, ১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড়ে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবীদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ওই যুদ্ধে মাত্র সতেরো বছর বয়সে তিনি বিপ্লবী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন।

নিচে তাঁর জীবন ও সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বছর/তারিখঘটনা
১৯১৩, ১২ মেকুমিল্লায় জন্মগ্রহণ
১৯২৯, মেচট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেস সম্মেলনে বিপ্লবী পরিকল্পনা উপস্থাপন
১৯৩০, ১৮ এপ্রিলচট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানে অংশগ্রহণ
১৯৩০, ২২ এপ্রিলজালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধে শহীদ

ত্রিপুরা সেনগুপ্তের জীবন অল্প সময়ের হলেও তা উপমহাদেশের বিপ্লবী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর কর্মকাণ্ড চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযান এবং জালালাবাদ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সশস্ত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিশেষ স্থান দখল করে আছে।