রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহিম (৩০)। তিনি ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রাশিয়ায় অবস্থানকালে ড্রোন হামলায় নিহত হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। আর্থিক সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে তিনি গত বছর রাশিয়ায় যান। সেখানে তিনি বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হন বলে পরিবার জানায়। বিদেশে অবস্থানকালে তিনি নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তবে ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরবর্তীতে সহযোদ্ধা ও পরিচিতদের মাধ্যমে পরিবার গত ১১ মে রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান বলে জানানো হয়।
নিহতের বাবা আজিজুল হক বলেন, পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব আব্দুর রহিমের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তার মৃত্যুতে পরিবার গভীর সংকটে পড়েছে। তিনি সরকারের কাছে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
নিহতের মামা আফসার আলী জানান, অর্থনৈতিক প্রয়োজনে আব্দুর রহিম বিদেশে গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন বলেন, পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশে অর্থনৈতিক প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না যাওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রাথমিক তথ্যসারণি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | আব্দুর রহিম |
| বয়স | ৩০ বছর |
| পিতা | আজিজুল হক |
| গ্রাম | পুটিজানা নামাপাড়া |
| উপজেলা | ফুলবাড়িয়া |
| জেলা | ময়মনসিংহ |
| কর্মস্থল/অবস্থান | রাশিয়া |
| মৃত্যুর কারণ (প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী) | ড্রোন হামলা |
| মৃত্যুর খবর জানানো হয় | ১১ মে রাতে |
উল্লেখিত তথ্যগুলো পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রাপ্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।
