খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৩:২৯ পিএম

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ছেলের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার বিয়ের আয়োজনকে ঘিরে বাড়িতে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। বরযাত্রী নিয়ে পাশের হিরণ্যপট্টি গ্রামের কনের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।
তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সময় দুই নারী হেলাল মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবি নিয়ে বরপক্ষের বাড়িতে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে একজন হেলালের সঙ্গে নিজের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানিয়ে তাকে বিয়ে করার দাবি তোলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই বিয়ের আয়োজন নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর হেলালের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের দাবি করা এক নারীর সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এর ফলে আগে থেকে নির্ধারিত কনের সঙ্গে হেলালের বিয়ে আর সম্পন্ন হয়নি।
বিয়ের আয়োজন শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে বরপক্ষকে কনেপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য। তবে এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।
এ ঘটনার পর সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি। ছেলের বিয়ে ভেস্তে যাওয়া, হঠাৎ করে সামনে আসা সম্পর্কের দাবি এবং বিষয়টি ঘিরে তৈরি হওয়া পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতা তাকে চরমভাবে হতাশ করে থাকতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তবে তার মৃত্যুর সঙ্গে এসব ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি আমগাছে সুরুজ মিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রেমের দাবি করা নারীসহ দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে সুরুজ মিয়ার ছেলে ও বর হেলাল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তিনি কেন বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন এবং পুরো ঘটনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে জানার চেষ্টা চলছে।
একটি বিয়েকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে দুই নারীর প্রেমের সম্পর্কের দাবি, নির্ধারিত বিয়ে বাতিল, নতুন করে বিয়ের সিদ্ধান্ত এবং এর পরপরই এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সুরুজ মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার সম্পর্ক কতটা, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য