স্পেনের ঘরোয়া ফুটবল লিগ লা লিগায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করেছে বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে সরাসরি পরাজিত করে তিন ম্যাচ হাতে থাকতেই এই শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করে কাতালান ক্লাবটি। এই বিশাল সাফল্য উদযাপনে সোমবার বার্সেলোনা শহরে এক বর্ণাঢ্য ছাদখোলা বাস শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, প্রিয় দলের বিজয় উদযাপনে শহরের রাজপথে সমবেত হয়েছিলেন প্রায় সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ফুটবল অনুরাগী। আর এই আনন্দ উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল, যার কিছু কর্মকাণ্ড বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
Table of Contents
নির্ধারণী ম্যাচ ও পয়েন্ট তালিকার চিত্র
গত রবিবারের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বার্সেলোনা ২-০ গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে পরাস্ত করে। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় রিয়ালের চেয়ে ১৪ পয়েন্টের ধরাছোঁয়ার বাইরের ব্যবধানে পৌঁছে যায় বার্সা। ফলে লিগের বাকি তিনটি ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে বার্সেলোনাকে টপকানো আর সম্ভব নয়। এটি ক্লাবটির ইতিহাসে ২৯তম লা লিগা শিরোপা।
বার্সেলোনা ক্লাব এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানিয়েছে যে, সমর্থকদের এই বিশাল উপস্থিতি দলের প্রতি সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। পুরো শহরটি এদিন বার্সেলোনার রঙে রঞ্জিত হয়েছিল, যাকে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ‘সমর্থকদের সমুদ্র’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বার্সেলোনার সাফল্য ও বিজয় শোভাযাত্রার তথ্য
লামিন ইয়ামালের প্রতীকী প্রতিবাদ ও বিদ্রুপ
বিজয় মিছিলের সময় সবার দৃষ্টি কেড়ে নেন তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। শোভাযাত্রার একটি বড় সময় জুড়ে তাঁর হাতে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা দেখা যায়। বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইয়ামালের এই অবস্থানকে অনেকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি ও মানবাধিকারের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এই পতাকা হাতে ছবিগুলো মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি ইয়ামালকে দেখা যায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কৌতুকপূর্ণ বিদ্রুপ করতে। তিনি একটি জার্সি উঁচিয়ে ধরেন যেখানে লেখা ছিল, “সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে আমি মাদ্রিদিস্তা নই।” স্প্যানিশ ফুটবলে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার সমর্থকদের মধ্যেকার বৈরিতা চিরকালীন। ইয়ামালের এই প্রদর্শনী বার্সা সমর্থকদের মনে বাড়তি উন্মাদনা যোগ করলেও রিয়াল ভক্তদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
কাতালুনিয়ায় উৎসবের সমাপ্তি
বিশাল এই শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। খেলোয়াড়রা বাসের উপর থেকে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান এবং শিরোপা প্রদর্শন করেন। ইয়ামাল ছাড়াও দলের অন্যান্য সিনিয়র ও জুনিয়র খেলোয়াড়রা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ভক্তদের সাথে ফ্রেমবন্দি করেন। বার্সেলোনার এই শিরোপা জয় এবং পরবর্তীতে সাত লক্ষাধিক মানুষের রাজপথে নেমে আসা প্রমাণ করে যে, স্প্যানিশ ফুটবলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েও বার্সেলোনা বর্তমানে চালকের আসনে রয়েছে। এই উদযাপনের মাধ্যমেই বার্সেলোনা তাদের গত দুই মৌসুমের কঠোর পরিশ্রমের সফল সমাপ্তি টানল। সংশ্লিষ্ট ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়ামালের মতো তরুণদের এমন আত্মবিশ্বাস আগামী মৌসুমেও দলটিকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।
