খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৬:২২ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন এক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সাবেক পেসার রুবেল হোসেনের দীর্ঘদিনের গড়া রেকর্ড ভেঙে ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগারের মালিক এখন এই ডানহাতি গতি তারকা।
রোববার জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বল হাতে দুর্দান্ত এক প্রদর্শনী উপহার দেন নাহিদ। তার গতি, লাইন-লেংথ এবং ধারাবাহিক আক্রমণে একের পর এক ভেঙে পড়ে স্বাগতিক ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর স্পেলটি আসে নাহিদের হাত থেকে। ১০ ওভার বল করে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি। এই পারফরম্যান্সই এখন বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে একক ম্যাচে সেরা বোলিং ফিগার হিসেবে নথিভুক্ত হলো।
এর আগে এই কীর্তি ছিল দুই অভিজ্ঞ পেসারের দখলে। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেই সময় সেটিই ছিল বাংলাদেশের বোলিংয়ের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স। পরে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একই রকম স্পেল উপহার দেন রুবেল হোসেন। তিনি ৫.৫ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন।
নাহিদের এই অর্জন শুধু একটি রেকর্ড ভাঙা নয়, বরং বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নতুন সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ পেসারদের মধ্যে গতি ও আগ্রাসন নিয়ে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, নাহিদের এই পারফরম্যান্স সেটিকে আরও দৃঢ়ভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই বাংলাদেশের হাতে ছিল, তবে নাহিদের বিধ্বংসী স্পেলই জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে দ্রুত গুটিয়ে দেয়। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেননি।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নাহিদ রানা এখন বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে একক ম্যাচে সেরা বোলিং ফিগারের মালিক হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন, আর একই সঙ্গে পেছনে ফেলেছেন দেশের দুই কিংবদন্তি পেসার মাশরাফি ও রুবেলকে।
মন্তব্য