খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

দীর্ঘ ১১ বছরের খরা কাটিয়ে আবারও ঘরের মাঠে এশিয়া কাপের মতো বড় ও মর্যাদাপূর্ণ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের মাটিতে বসতে পারে এশিয়ান ক্রিকেটের এই মহোৎসব। মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্টটি সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক নড়াচড়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো আয়োজনের জন্য দেশের প্রধান তিনটি আন্তর্জাতিক ভেন্যুকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। এই সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো হলো—ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এবং নয়নাভিরাম সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
তবে ভেন্যু চূড়ান্তকরণের পুরো বিষয়টি এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। ক্রিকেট বোর্ডগুলোর প্রস্তাবের পর এই স্টেডিয়ামগুলোর সুযোগ-সুবিধা, সুযোগ-সামর্থ্য এবং বর্তমান অবকাঠামোগত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বা ‘ডিটেইলস’ জানতে চেয়েছে টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক সংস্থা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওয়ানডে ফরম্যাটের এই এশিয়া কাপটি আগামী বছরের জুন-জুলাই উইন্ডোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসিসির পক্ষ থেকে এখনও টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভেন্যু সংক্রান্ত এই অগ্রগতির কথা জানান বিসিবির নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ। তিনি বলেন, এশিয়া কাপের জন্য দেশের নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়া তিনটি ভেন্যুর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। মিরপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট—এই তিনটি মাঠই আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেনা আঙিনা। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যদি সব ঠিক থাকে এবং আগামী বছরের এশিয়া কাপ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়, তবে দেশের ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকরা মাঠে বসে দারুণ একটি টুর্নামেন্ট উপভোগ করতে পারবেন।
সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ আরও যোগ করেন, প্রস্তাবিত ভেন্যুগুলোর সার্বিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিসিবির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এসিসি। বিসিবিও খুব দ্রুত তাদের চাহিদামতো সব ধরনের তথ্য সরবরাহ করবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই পক্ষের পর্যালোচনার পর ভেন্যুর বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০১২, ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে টানা তিনবার এশিয়া কাপের সফল আয়োজক ছিল। এর মধ্যে ২০১২ ও ২০১৪ সালের আসর দুটি ওয়ানডে ফরম্যাটে এবং ২০১৬ সালের আসরটি হয়েছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। যদি আগামী বছরের জুন-জুলাই উইন্ডোর এই টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশে আসে, তবে দীর্ঘ ১১ বছর পর দেশের মানুষ ঘরের মাঠে ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপ দেখার সুযোগ পাবে। চেনা কন্ডিশনে এমন টুর্নামেন্ট আয়োজন যেমন বাংলাদেশ দলের জন্য বাড়তি সুবিধা নিয়ে আসবে, তেমনি দেশের ক্রিকেট উন্মাদনাকেও এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবে। বিসিবি এখন কেবল এসিসির আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য