খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই মে ২০২৬, ৪:১৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আটক থাকা পাঁচজন আসামিকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার ছয়জন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী। তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার দুইজন উপ-পরিদর্শক এবং চারজন কনস্টেবল। তবে কনস্টেবলদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকার হাশেমবাগে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কনস্টেবলের বাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত লুটপাট চালায়। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক করে হাতকড়া পরিয়ে তাদের হেফাজতে নেয় এবং লুট হওয়া কিছু আসবাবপত্রও উদ্ধার করে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা হঠাৎ আক্রমণ করে আটক থাকা পাঁচজন আসামিকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায়।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
| পদবি | সংখ্যা | অবস্থা |
|---|---|---|
| উপ-পরিদর্শক | ২ জন | প্রত্যাহার |
| সহকারী উপ-পরিদর্শক | ০ জন | উল্লেখ নেই |
| কনস্টেবল | ৪ জন | প্রত্যাহার |
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
মন্তব্য