খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুন ২০২৬, ৫:৪০ পিএম

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে প্রশাসনিক ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং নৈতিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির কথা জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে তিনি পেশাগত সীমার বাইরে গিয়ে একটি চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যা সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে অনুমোদন পায়। এরপর তা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পন্ন হলে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট ফিরে যায় ২০২১ সালের ৯ জুনে, যখন সাভারের একটি বিনোদনকেন্দ্রকে ঘিরে নৌবিহারের সময় একটি অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় এক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী অভিযোগ করেন যে তিনি সেখানে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার শিকার হন। পরে ১৪ জুন এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয় এবং এক ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন মো. গোলাম সাকলায়েন।
তদন্ত চলাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তাকে তদন্ত কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
পরবর্তী সময়ে বিষয়টি প্রশাসনিক নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পুনরায় পর্যালোচনা করা হয় এবং তার পেশাগত আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| ধাপ | ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|---|
| ১ | অভিযোগ উত্থাপন | সাভারের নৌবিহারকেন্দ্রিক ঘটনায় মামলা দায়ের |
| ২ | তদন্ত দায়িত্ব গ্রহণ | গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন |
| ৩ | ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ | তদন্ত চলাকালে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠে |
| ৪ | দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার | তদন্ত কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় |
| ৫ | অভ্যন্তরীণ তদন্ত গঠন | অভিযোগ যাচাইয়ে কমিটি গঠন করা হয় |
| ৬ | চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত | বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত |
এদিকে, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীর বিভিন্ন মন্তব্যও আলোচনায় আসে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা তৈরি করা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের ফল হতে পারে। তার মতে, কোনো ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় থাকলে তাকে ঘিরে নানা ধরনের গুজব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিকভাবে নেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত তার কাছে পুরোপুরি যৌক্তিক মনে হয়নি এবং বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা উচিত ছিল। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ওই কর্মকর্তার জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেন বলেও মন্তব্য করেন।
বর্তমান সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আবারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, পেশাগত নৈতিকতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও তদন্ত প্রক্রিয়ার মানদণ্ড
মন্তব্য