খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ১২:২২ এএম

সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভারত থেকে চোরাইপথে অবৈধভাবে আনা ৯৬ বোতল বিদেশি মদসহ সালমান ফকির (২৮) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ (র্যাব)। শনিবার (২০ জুন) বিকেলের দিকে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের গামাইরতলা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি সালমান ফকির ওই উপজেলার গামাইরতলা গ্রামের মো. আব্বাস আলীর ছেলে। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ মাদক সামগ্রী বাংলাদেশে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
র্যাব-৯ এর নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, শনিবার দুপুরের দিকে র্যাবের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ধনপুর ইউনিয়নের গামাইরতলা এলাকার একটি বাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কেনাবেচার উদ্দেশ্যে কয়েকজন মাদক কারবারি জড়ো হয়ে অবস্থান করছে। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং মাদক উদ্ধারের লক্ষ্যে র্যাব-৯ এর সিপিসি-৩ (সুনামগঞ্জ ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উক্ত গামাইরতলা এলাকার লক্ষ্যবস্তু করা বাড়িতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকারী র্যাব দলের আকস্মিক উপস্থিতি টের পেয়ে ওই বাড়িতে অবস্থানরত দুই ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এই সময় র্যাবের চৌকস সদস্যরা পিছু ধাওয়া করে সালমান ফকির নামের ওই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলেই অবরুদ্ধ করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও তার অপর এক সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত সালমান ফকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার তাৎক্ষণিক হেফাজতে থাকা একটি বড় সাদা রঙের প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। উক্ত বস্তাটি স্থানীয় স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করে ভেতরে লুকানো অবস্থায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৯৬ বোতল আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় বিদেশি মদ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার করার পর মাদক কারবারি সালমান ফকিরকে র্যাবের আভিযানিক দল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করে। জিজ্ঞাসাবাদে সালমান ফকির র্যাবের কাছে স্বীকার করেছে যে, সে এবং তার পলাতক সহযোগী দীর্ঘ দিন ধরে মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা উভয়ই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে চোরাইপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এই সকল ভারতীয় বিদেশি মদ সংগ্রহ করেছিল।
পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদকগুলো তারা নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল এবং ঘটনার দিন বিক্রির জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে অবৈধ মাদক সামগ্রী দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসছিল বলে জানা যায়।
এই সফল মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে র্যাব-৯ এর সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়া সালমান ফকিরের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে এবং জব্দ করা ৯৬ বোতল বিদেশি মদের আলামত আনুষ্ঠানিকভাবে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা নজরদারি এবং এই ধরনের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অবিরাম ও অব্যাহত থাকবে। একই সাথে এই মামলার পলাতক আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য