খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুন ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম

সিলেট বিভাগে হাম ও নিউমোনিয়াজনিত জটিলতার প্রাদুর্ভাব আরও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নতুন করে দুইজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ফলে সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। মৃত শিশুদের একজন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সুলতানপুর এলাকার সজল মিয়ার সাত মাস বয়সী ছেলে সারহান এবং অন্যজন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উজ্জ্বল মিয়ার পাঁচ মাস বয়সী ছেলে আহিয়ান।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়াজনিত জটিলতার কারণে শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
Table of Contents
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে পরীক্ষাগারে মোট ৩২৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়।
| জেলা | শনাক্ত হাম রোগী |
|---|---|
| সিলেট | ১০৭ |
| সুনামগঞ্জ | ১৭৮ |
| মৌলভীবাজার | ১৬ |
| হবিগঞ্জ | ২৬ |
| মোট | ৩২৭ |
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট শনাক্ত রোগীর অর্ধেকেরও বেশি সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, ঘনবসতি, টিকাদান কর্মসূচির আওতার ঘাটতি এবং সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৬১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত একদিনে নতুন করে ৬৯ জন ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ড এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা ইউনিটগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
হাম ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় মৃত্যুর সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে। বিভাগের চারটি জেলাতেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
| জেলা | মোট মৃত্যু |
|---|---|
| সিলেট | ২৯ |
| সুনামগঞ্জ | ৩১ |
| মৌলভীবাজার | ১০ |
| হবিগঞ্জ | ৬ |
| মোট | ৭৬ |
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৭২ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
হামের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। তবে জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা ও অপুষ্টির মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এসব জটিলতাই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এনে সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কোনো শিশুর মধ্যে জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
ক্রমাগত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ইঙ্গিত করছে যে সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ অবস্থায় সংক্রমণ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রম শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
মন্তব্য