খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই এপ্রিল ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য আসছে এক নতুন ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। আগামী ৫ জুন ইউরোপের ক্ষুদ্র দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সান মারিনোর মাটিতে, যা বাংলাদেশ দলের জন্য প্রথমবারের মতো ইউরোপে কোনো জাতীয় দলের বিপক্ষে অফিশিয়াল ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়; বরং দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সান মারিনোর মতো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলা বাংলাদেশ দলের জন্য কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশের এই দাবিকে ঘিরে ফুটবল ইতিহাসে কিছু বিতর্কও রয়েছে। এর আগে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডে ভারতের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ জাতীয় দল। সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল লেস্টারে এবং ম্যাচে বাংলাদেশ ১–০ গোলে পরাজিত হয়। সে সময় বাংলাদেশের কোচ ছিলেন হাসানুজ্জামান বাবলু। তিনি স্মরণ করেন, ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলের মধ্যকার একটি স্বীকৃত প্রতিযোগিতা, যেখানে দুই দেশের মূল দলই অংশ নিয়েছিল।
এছাড়া ২০০১ সালে কোচিনে অনুষ্ঠিত মিলেনিয়াম সুপার সকার নামের একটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউরোপের দুই দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছিল, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের তালিকাভুক্ত ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে ইউরোপের দলের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের একেবারে প্রথম ম্যাচ—এমন দাবি পুরোপুরি সঠিক নয় বলে ফুটবল ইতিহাসবিদরা মনে করেন।
বাংলাদেশ ও সান মারিনোর মধ্যকার আসন্ন ম্যাচটি নিয়ে উভয় দেশই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। সান মারিনোর জন্যও এটি হবে এশিয়ার কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। ফলে দুই দলের জন্যই এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দেবে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ম্যাচের নির্দিষ্ট সময় ও ভেন্যুর বিস্তারিত শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। তারা আশা করছে, এই ম্যাচ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে ভূমিকা রাখবে।
ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী দুই দলের অবস্থানেও পার্থক্য রয়েছে। সান মারিনো সাধারণত তালিকার নিচের দিকে অবস্থান করে, অন্যদিকে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। নিচে একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো—
| দল | অবস্থান |
|---|---|
| বাংলাদেশ | ১৮১তম |
| সান মারিনো | ২১১তম |
সান মারিনো ইউরোপের একটি অত্যন্ত ছোট রাষ্ট্র, যা সম্পূর্ণভাবে ইতালির ভেতরে অবস্থিত। মাত্র প্রায় একষট্টি বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক পরিসরের দিক থেকে ছোট হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিয়মিত অংশগ্রহণের কারণে তারা একটি স্বীকৃত দল হিসেবে পরিচিত।
সব মিলিয়ে আসন্ন এই ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতার অধ্যায় হতে যাচ্ছে, যা খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য