ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন

ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত মামলার আইনগত ভিত্তি, অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার বৈধতা যাচাইয়ে রুল জারি করেছেন। এই রুলের চূড়ান্ত শুনানির মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে মামলার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারিত হবে।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত রোববার এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের ওপর বিস্তারিত শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত আসে। জামিন আবেদনটি দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন থাকার পর অবশেষে প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়।

আবুল সরকারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল। তিনি আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, অভিযোগপত্রে ধর্ম অবমাননার বিষয় উল্লেখ থাকলেও তার পক্ষে যথাযথ প্রমাণ বা পর্যাপ্ত আইনি উপাদান উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল এবং জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি। তিনি মামলার গুরুত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর বিষয়টি উচ্চ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। হাইকোর্ট প্রাথমিক শুনানিতে নথিপত্র ও অভিযোগ বিশ্লেষণ করে মনে করে, মামলাটিতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া যেতে পারে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, অন্য কোনো মামলায় আটক না থাকলে তার মুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ৪ নভেম্বর, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি লোকজ মেলা ও পালাগানের আসরকে কেন্দ্র করে। ওই আসরে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, তার বক্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং আপত্তিকর মন্তব্য রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

পরবর্তীতে ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর ২০ নভেম্বর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ঘিওর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা নিচে তুলে ধরা হলো—

তারিখঘটনা
৪ নভেম্বরঘিওর উপজেলার লোকজ মেলায় পালাগানে বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি
১৯ নভেম্বরমাদারীপুরে গানের আসর থেকে আটক
২০ নভেম্বরআদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ
পরবর্তীতেহাইকোর্টে জামিন আবেদন দাখিল
রোববারছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর

আদালতের এই আদেশে আবুল সরকারের সাময়িক মুক্তির পথ খুলে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো বাকি রয়েছে। রুলের শুনানি শেষে আদালত নির্ধারণ করবে অভিযোগের আইনগত ভিত্তি কতটা শক্তিশালী এবং আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ টেকসই কি না। এদিকে বিষয়টি ঘিরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ও বাউল সংগীত মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।