খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ এএম
রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড মামলায় নতুন আইনি অগ্রগতি এসেছে। ওই অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন নিহত, ১১ জন আহত এবং ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভবনটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংশ্লিষ্টরা দণ্ডবিধির সাতটি ধারায় অপরাধে যুক্ত।
তদন্ত শেষে ৪ জনকে দায়মুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই জন মারা যাওয়ায় এবং দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত প্রধান আসামিরা হলেন—
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করেছেন। তারা বৈধ অনুমোদন ছাড়াই হোটেল ব্যবসা পরিচালনা, গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করেছেন। এর ফলে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং ৪৬ জনের মৃত্যু ঘটে, যার মধ্যে ৩ জন সম্পূর্ণরূপে আগুনে পুড়ে মারা যান।
ঘটনার পরদিন, ১ মার্চ রমনা থানায় পুলিশ মামলা দায়ের করে। মামলায় অবহেলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিচে চার্জশিট ও ঘটনাপত্রের মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা | গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ড |
| তারিখ ও সময় | ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, রাত পৌনে ১০টা |
| মৃত্যু সংখ্যা | ৪৬ জন (৩ জন আগুনে পুড়ে মারা যান) |
| আহত | ১১ জন |
| জীবিত উদ্ধার | ৭৫ জন |
| আসামি সংখ্যা | ২২ জন |
| দায়মুক্তির সুপারিশ | ৪ জন (২ মৃত, ২ অপ্রমাণিত) |
| অভিযোগ | সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা, প্রাণহানি |
| তদন্তকারী | সিআইডি (পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী) |
| মামলার ধারা | দণ্ডবিধির সাতটি ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত |
সবমিলিয়ে, গ্রিন কোজি অগ্নিকাণ্ড মামলায় চার্জশিট দাখিল এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু হওয়া জনগণের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা অনিয়ম, অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির পরিণতি হিসেবে সমাজে সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য