খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ১:৬ এএম

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি নতুন লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এই লঘুচাপের কেন্দ্রস্থলটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে তীব্র ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে মেঘের ঘনঘটা বাড়ার কারণে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া আবহাওয়ার নিয়মিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, আষাঢ়-শ্রাবণের এই ভরা বর্ষায় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে এই বায়ু এখন বেশ প্রবল ও শক্তিশালী অবস্থায় বিরাজ করছে। সাগরে এই সঞ্চালন প্রক্রিয়ার কারণে উপকূলীয় নদী ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় একই ধরনের বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। হঠাৎ শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাতের ফলে নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শ্রাবণ মাসের এই সময়ে দেশের কৃষকেরা আমন ধান চাষের জন্য বৃষ্টির পানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেন। কৃষিবিদদের মতে, এই লঘুচাপের ফলে সৃষ্ট বৃষ্টিপাত আমন চাষের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনতে পারে। তবে অতিরিক্ত ভারী বর্ষণ হলে আবার বীজতলা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।
অন্যদিকে, পাহাড়ি অঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের একটি মৃদু ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব অঞ্চলের জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাহাড়ি ঢল ও ধস এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকার মতো বড় শহরগুলোতে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাত হলে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের রাস্তায় চলাচলে জলজট ও তীব্র যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লঘুচাপটি পুরোপুরি সক্রিয় হওয়ার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চায়ের দেশ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। সেখানে প্রায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার পরিমাণ ছিল মাত্র ৭ মিলিমিটার।
আবহাওয়াবিদদের ধারণা, বঙ্গোপসাগরের এই লঘুচাপটি যদি আরও ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী রূপ নেয়, তবে আগামী দিনগুলোতে দেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা ও দমকা হাওয়ার বেগ আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে সাবধানে এবং উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য