
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তেল আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দামের সামান্য পরিবর্তনও অভ্যন্তরীণ বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করে।
এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত সরকার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্কে বড় ধরনের সমন্বয় এনেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রলের ওপর শুল্ক লিটারপ্রতি ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে ৩ রুপিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজেলের ক্ষেত্রে আগের শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানো এবং পরিবহন, কৃষি ও শিল্পখাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারেরও বেশি থাকায় ভারতের তেল বিপণন কোম্পানিগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রলে প্রায় ২৪ রুপি এবং ডিজেলে প্রায় ৩০ রুপি পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছিল। নতুন শুল্ক কাঠামোর মাধ্যমে এই ক্ষতির একটি অংশ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, রাজস্ব আয়ের কিছুটা ঘাটতি হলেও সাধারণ জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোই বর্তমান সময়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিশেষ করে পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
| খাত | পূর্বের শুল্ক | নতুন শুল্ক | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| পেট্রল (লিটারপ্রতি) | ১৩ রুপি | ৩ রুপি | ১০ রুপি হ্রাস |
| ডিজেল (লিটারপ্রতি) | ১০ রুপি | ০ রুপি | সম্পূর্ণ প্রত্যাহার |
| ডিজেল রপ্তানি | প্রযোজ্য নয় | ২১.৫ রুপি | নতুন কর আরোপ |
| বিমান জ্বালানি রপ্তানি | প্রযোজ্য নয় | ২৯.৫ রুপি | নতুন কর আরোপ |
একই সঙ্গে সরকার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানির ওপর নতুন কর আরোপ করেছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ বজায় রাখা এবং ঘাটতি এড়ানোই মূল উদ্দেশ্য।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের বার্ষিক রাজস্বে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি হতে পারে, যা প্রায় ১.৫৫ ট্রিলিয়ন রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর লোকসান ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে, যা পুরো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে কিছুটা স্থিতিশীল করবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই নীতি স্বল্পমেয়াদে ভোক্তাদের স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবুও বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আসন্ন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে প্রায় নব্বই শতাংশ চাহিদার জন্য বৈদেশিক উৎসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হয়। এই বাস্তবতায় সাম্প্রতিক শুল্ক সমন্বয়কে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
> দুই ট্রাকের সংঘর্ষে অটোরিকশা চাপা, নিহত ২
> নতুন গানে মুরাদ নূরের সুর, গাইলেন মুহিন খান
> জয়ের মানসিকতায় বড় মঞ্চে যেতে চায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০
> রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ৯৭ বার পেছাল
> ৯ আগস্ট বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
> মাঠ থেকে ছিটকে সড়কে ফুটবল, ঘটল দুর্ঘটনা
> আফগানিস্তানের জয়ে সরাসরি বিশ্বকাপের আশা শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের
> ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ ঘিরে ফের বাড়ছে অনিশ্চয়তা
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের তালিকা ও ফোন নম্বর
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> বানরের আতঙ্কে ভীত লালবাজারবাসী ডিসি বরাবর আবেদন
> চাটখিলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য