প্রধান তিন বোলার ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল তাদের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের জন্য দলীয় সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে। এই সফরে অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত বোলিং আক্রমণের প্রধান তিন স্তম্ভ—প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জস হ্যাজলউডকে ছাড়াই বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শের নেতৃত্বে এই সফরে মূলত তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলীয় দল তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং তিনটি বিশ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা টি-টুয়েন্টি খেলবে।

সফরের রূপরেখা ও দল নির্বাচন

বাংলাদেশে আসার পূর্বে অস্ট্রেলিয়া দল পাকিস্তানে তিনটি একদিনের ম্যাচের একটি সিরিজ সম্পন্ন করবে। বিস্ময়করভাবে, সেই সিরিজেও দলের মূল তিন দ্রুতগতির বোলারকে রাখা হয়নি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক প্যানেল আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করতে এই কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং মার্কাস স্টয়নিস একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য লভ্য ছিলেন; তবে এই সফরে তাদেরও বিবেচনা করা হয়নি। এছাড়া জ্যেষ্ঠ ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথকেও এই সিরিজের পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছে।

ভারতের ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি লিগ শেষে ট্রাভিস হেড, কুপার কনোলি, জেভিয়ার বার্টলেট এবং বেন ডয়ারশুইস সরাসরি ভারত থেকে বাংলাদেশে দলের সাথে সংযুক্ত হবেন।

বাংলাদেশ সফরের সময়সূচী (২০২৬)

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সবগুলো ম্যাচই অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচী নিচে দেওয়া হলো:

ম্যাচের ধরণতারিখপ্রতিপক্ষ
প্রথম একদিনের ম্যাচ৯ জুনবাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া
দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচ১১ জুনবাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া
তৃতীয় একদিনের ম্যাচ১৪ জুনবাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া
প্রথম টি-টুয়েন্টি১৭ জুনবাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া
দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি১৯ জুনবাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া
তৃতীয় টি-টুয়েন্টি২১ জুনবাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া

দলীয় কাঠামো ও স্কোয়াড

পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরের জন্য ঘোষিত তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্কোয়াড মিলিয়ে মোট ২৪ জন ক্রিকেটারকে নির্বাচন করা হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সুযোগ পেয়েছেন অস্ট্রেলীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক অলিভার পিক।

একদিনের ম্যাচের দল (বাংলাদেশ সফর):

মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, বেন ডয়ারশুইস, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুহনেমান, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাথু রেনশ, তানভির সাংহা, লিয়াম স্কট এবং অ্যাডাম জাম্পা।

টি-টুয়েন্টি ম্যাচের দল (বাংলাদেশ সফর):

মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনলি, টিম ডেভিড, জোয়েল ডেভিস, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যারন হার্ডি, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, স্পেন্সার জনসন, ম্যাথু কুহনেমান, রাইলি মেরেডিথ, জশ ফিলিপ, ম্যাথু রেনশ এবং অ্যাডাম জাম্পা।

পাকিস্তান সফরের একদিনের দল:

মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), অ্যালেক্স ক্যারি, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুহনেমান, মার্নাস লাবুশেন, রাইলি মেরেডিথ, অলিভার পিক, ম্যাথু রেনশ, তানভির সাংহা, লিয়াম স্কট, ম্যাট শর্ট, বিলি স্ট্যানলেক এবং অ্যাডাম জাম্পা।

এই সফরে অভিজ্ঞ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার কাঁধে থাকবে স্পিন আক্রমণের গুরুদায়িত্ব। দক্ষিণ এশীয় মন্থর উইকেটে তরুণ ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই অস্ট্রেলীয় দলের প্রধান লক্ষ্য। মূল বোলারদের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য যেমন রান তোলার সুযোগ থাকবে, তেমনি অস্ট্রেলীয় তরুণদের জন্য এটি নিজেদের প্রমাণের একটি বড় মঞ্চ। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তাদের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট কাঠামোর একটি চিত্র তুলে ধরতে চাইছে।