খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই মার্চ ২০২৬, ৮:১৮ পিএম

ওয়াশিংটন, শুক্রবার – ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ মোতায়েন করেছে। এই বিশেষ নৌযানগুলো নজরদারি, টহল এবং প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলার জন্য ব্যবহারযোগ্য। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন শুক্রবার (২৭ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের নৌযান মোতায়েনের খবর আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি।
Table of Contents
গত কয়েক বছরে চালকবিহীন নৌযান বা ‘সি ড্রোন’ প্রযুক্তি সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ওপর বিস্ফোরক বোঝাই স্পিডবোটের সফল ব্যবহার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রযুক্তিকে ইরান উপসাগরে নিরাপত্তা ও নজরদারি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’ তৈরি এসব ড্রোন নৌযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে মোতায়েন হয়েছে। এগুলো গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট (জিএআরসি) নামে পরিচিত। টহল চলাকালীন এই নৌযানগুলো ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি পানিতে ভেসে প্রায় ২,২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করেছে।
মার্কিন নৌবাহিনী বহু বছর ধরে স্বয়ংক্রিয় ও চালকবিহীন নৌযান তৈরি ও পরীক্ষা করে আসছে। মূল উদ্দেশ্য হলো সাবমেরিন ও নৌবহরের খরচ কমানো, পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-শক্তির মোকাবেলা। তবে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা, ব্যয় ও পরীক্ষামূলক সমস্যার কারণে প্রচেষ্টা কিছুটা ধীরগতি পেয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ মিটার লম্বা কোণাকৃতির স্পিডবোট জিএআরসি একাধিক নিরাপত্তাজনিত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। সামরিক পরীক্ষার সময় দ্রুত গতিতে অন্য নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরেকটি পরীক্ষার সময় জিএআরসি অচল হয়ে পড়েছে।
হকিন্স বলেন, “জিএআরসি একটি উদীয়মান সক্ষমতা সম্পন্ন প্রযুক্তি। এটি মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অংশ এবং আঞ্চলিক জলসীমায় ঘটমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ইরানের সম্ভাব্য হুমকি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিরীক্ষণে এটি কার্যকর।”
| বিষয় | তথ্য/বিস্তারিত |
|---|---|
| মোতায়েনকারী | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পেন্টাগন |
| প্রযুক্তি | চালকবিহীন ড্রোন স্পিডবোট (জিএআরসি) |
| নির্মাতা | মেরিল্যান্ডভিত্তিক ‘ব্ল্যাক-সি’ প্রতিষ্ঠান |
| কার্যক্রমের লক্ষ্য | ইরান উপসাগরে টহল, নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা |
| প্রয়োগ | আত্মঘাতী হামলা ও নজরদারি উভয়েই ব্যবহারযোগ্য |
| অপারেশন | ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমর্থনে মোতায়েন |
| কার্যকারিতা | ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি পানিতে ভেসে ২,২০০ নটিক্যাল মাইল অতিক্রম |
| প্রযুক্তিগত সমস্যা | সংঘর্ষ, নিরাপত্তা ও পরীক্ষামূলক ব্যর্থতা |
| ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা | স্বয়ংক্রিয় নৌবাহিনীর শক্তিশালী সম্প্রসারণ ও নজরদারি |
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরান উপসাগরে সামরিক সক্ষমতা ও নজরদারি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চালকবিহীন নৌযান প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌ-প্রতিযোগিতা এবং অপারেশনাল কৌশলগুলিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
যদিও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, জিএআরসি ড্রোন স্পিডবোটের মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য নতুন কার্যকরী সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ও প্রভাব আরও সুদৃঢ় করবে।
মন্তব্য