বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার আন্ধারমানিক ইউনিয়নে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় আপন দুই ভাই-বোন পুকুরের পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সন্তান হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা সুমনা বেগম, আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।
নিহত দুই শিশু হলো পাঁচ বছর বয়সী ছাহাদ হোসেন এবং তার তিন বছর বয়সী ছোট বোন ছাফিয়া আক্তার। তারা হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী ছাইদুল হাওলাদারের সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবার প্রবাস জীবনের কারণে শিশুরা মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি হারুন ব্যাপারীর বাড়িতে বসবাস করছিল।
ঘটনার দিন বিকেলে সন্তানদের খাওয়ানোর পর মা সুমনা বেগম নিজে ভাত খেতে বসেন। সেই সুযোগে দুই শিশু বাড়ির আঙিনায় খেলতে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাদের আর দেখা না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির পেছনের পুকুরে ছাফিয়া আক্তারের নিথর দেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলাকালেই একই পুকুর থেকে ছাহাদ হোসেনকেও ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয়দের মতে, বাড়ির খুব কাছেই অবস্থিত পুকুরটি ছিল অনিরাপদ এবং সেখানে কোনো ধরনের সুরক্ষাবেষ্টনী বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ফলে ছোট শিশুরা সহজেই সেখানে পৌঁছে যেতে পারে, যা এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গ্রামবাসীরা মনে করছেন, সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এই ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হতো।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত শিশু | ছাহাদ হোসেন (৫), ছাফিয়া আক্তার (৩) |
| পিতার নাম | ছাইদুল হাওলাদার (প্রবাসী) |
| বসবাসের স্থান | আন্ধারমানিক ইউনিয়ন, কাজিরহাট, মেহেন্দীগঞ্জ |
| ঘটনার ধরন | পুকুরের পানিতে ডুবে মৃত্যু |
| ঘটনার সময় | বৃহস্পতিবার বিকেল |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
ঘটনার সময়ক্রম
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| বিকেলের শুরু | শিশুদের খাওয়ানোর পর মা ভাত খেতে বসেন |
| কিছুক্ষণ পর | শিশুরা বাড়ির আঙিনায় খেলতে বের হয় |
| পরবর্তী সময় | শিশুদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না |
| এরপর | পুকুরে এক শিশুর দেহ ভেসে ওঠে |
| উদ্ধার পর্ব | দুই শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় |
| পরবর্তী ধাপ | চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন |
এ ধরনের দুর্ঘটনা গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই ঘটে থাকে, বিশেষ করে যেখানে বাড়ির আশেপাশে খোলা পুকুর থাকে এবং শিশুদের নিরাপত্তার জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। স্থানীয়রা বলছেন, পুকুরের চারপাশে বেড়া বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা অনেকটাই রোধ করা যেত।
শিশুদের এই অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো গ্রামকেই শোকাহত করে তুলেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেও মায়ের কান্না থামছে না, আর সেই আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
