হরমুজ প্রণালীতে একই দিনে তিন জাহাজে হামলা

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বুধবার (১১ মার্চ) একদিনে তিনটি পৃথক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত বস্তু দ্বারা সংঘটিত এই হামলায় তিনটি জাহাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এবং ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটিও) এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে হামলার শিকার হয়। জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে অগ্নিকাণ্ডের কারণে জরুরি ভিত্তিতে বেশিরভাগ নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেনি। বর্তমানে জাহাজটিতে কেবল প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন।

একই দিনে জাপানের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে হামলার শিকার হয়। জাহাজটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নাবিকরা নিরাপদ আছেন। বর্তমানে এটি একটি নিরাপদ নোঙরস্থানের দিকে এগোচ্ছে।

তৃতীয় হামলার শিকার হয়েছে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী জাহাজ ‘স্টার গুইনেথ’, যা দুবাই থেকে প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, সব নাবিক নিরাপদ আছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটে অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

নিচের টেবিলে হামলার প্রধান তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

জাহাজের নামপতাকাঅবস্থান (নটিক্যাল মাইল)ক্ষতির ধরননাবিকদের অবস্থা
মায়ুরি নারিথাইল্যান্ডওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরইঞ্জিন রুমে আগুনজরুরি ভিত্তিতে সরানো, বর্তমানে নিরাপদ
ওয়ান ম্যাজেস্টিজাপানরাস আল খাইমাহর ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমসামান্য ক্ষতিগ্রস্তসকল নাবিক নিরাপদ
স্টার গুইনেথমার্শাল আইল্যান্ডসদুবাইয়ের ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমক্ষতিগ্রস্তসকল নাবিক নিরাপদ

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই হামলার ধারা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও তেল সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই হামলা হরমুজ প্রণালীকে পুনরায় বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার একটি সংবেদনশীল কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সামুদ্রিক বাণিজ্য ও এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।