,

নজরুল বর্ষ উদ্বোধন সাময়িকভাবে স্থগিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ঘোষিত বছরব্যাপী জাতীয় আয়োজন ‘নজরুল বর্ষ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলতি বছরের ১৮ জুন থেকে তিন দিনব্যাপী উদ্বোধনী আয়োজন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বৃহৎ পরিসর ও সমন্বিত প্রস্তুতির স্বার্থে তা পিছিয়ে জুন মাসের শেষ সপ্তাহে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত সূচি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গত ২৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার পর থেকেই সারাদেশে বছরব্যাপী সাংস্কৃতিক ও গবেষণামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়।

সোমবার সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা নাইতী রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পর্যায়ের এক বৈঠকে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, দেশের সব জেলা ও নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যন্ত উপজেলায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে কবির সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনভিত্তিক আয়োজনকে ছড়িয়ে দিতে এই অর্থ ব্যবহৃত হবে।

অর্থ বরাদ্দের বিবরণ

এলাকাবরাদ্দ অর্থ
৬৪টি জেলাপ্রতি জেলায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা
৭৪টি প্রত্যন্ত উপজেলাপ্রতি উপজেলায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা
মোট বরাদ্দ২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা

কর্মকর্তারা জানান, এই বরাদ্দের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নজরুলের গান, কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং তরুণদের অংশগ্রহণমূলক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আরও বড় পরিসরের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ নজরুল মেলা, আন্তর্জাতিক নজরুল গবেষক সম্মেলন, সারাদেশব্যাপী সাহিত্য ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতা এবং নির্বাচিত রচনাসমূহ নিয়ে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ।

এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নজরুলের নারী মুক্তি আন্দোলন, সাম্যবাদী চিন্তা ও মানবতাবাদ বিষয়ক আলোচনা ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে দেশাত্মবোধক নজরুল সংগীত উৎসব এবং রমজান মাসে তাঁর হামদ ও নাতভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, এসব কর্মসূচির বেশ কিছু প্রস্তাব বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বিস্তারিত সময়সূচি ও বাস্তবায়ন কাঠামো ঘোষণা করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে এসব আয়োজন সম্পন্ন হলে নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও সাংস্কৃতিক অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে যাবে এবং জাতীয় সংস্কৃতিতে তাঁর মূল্যায়ন আরও সুদৃঢ় হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।