মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কুতুবপুর ইউনিয়ন কার্যালয় খুলে দেয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী উত্তেজনা ও পালটাপাল্টি দখলের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা আতিকুর রহমান মাদবরের নেতৃত্বে বন্ধ থাকা অফিসটি হঠাৎ খোলা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অফিসটি পুনরায় তালাবদ্ধ করে নিয়ন্ত্রণ নেন।
জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান মিলন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অফিসটি খোলার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছিল। আমরা দ্রুত গিয়ে অফিসটি পুনরায় বন্ধ করেছি এবং বর্তমানে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনিক সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কোনও ধরনের সহিংসতা বা মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কুতুবপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ অফিস দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। রাজনৈতিক শূন্যতার এই সুযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনা | পক্ষগুলোর নেতৃত্ব | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর | আ.লীগের বন্ধ অফিস হঠাৎ খোলা হয় | আতিকুর রহমান মাদবর, আ.লীগ | অফিস খোলা হয়, কয়েক ঘণ্টার জন্য নিয়ন্ত্রণে আসে |
| ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর পরে | বিএনপি ও ছাত্রদল অফিস পুনরায় তালাবদ্ধ করে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ | নাজমুল হাসান মিলন, জেলা ছাত্রদল ও স্থানীয় বিএনপি | অফিস পুনরায় বন্ধ ও বিএনপি-ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণে আসে |
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার পেছনে আগামী ইউনিয়ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা কাজ করছে। কার্যালয় দখলের এই প্রক্রিয়া স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এ ঘটনায় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংঘর্ষ এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। ইউপি এলাকার সাধারণ মানুষও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের উত্তেজনা স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে।
এভাবে, কুতুবপুর ইউনিয়নের রাজনৈতিক কার্যক্রম আবারও জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে দুই দলের দখল-পালটাপাল্টির ঘটনা জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে।
