খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৩৬ পিএম

বগুড়ার নন্দীগ্রামে স্থানীয় ফুটবল বিরোধের জেরে এক কিশোরের নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টায় বুরাইল গ্রামের একটি মসজিদের সামনে দশম শ্রেণীর ছাত্র ও স্থানীয় রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সদস্য মিলন রহমান ছুরিকাঘাতে নিহত হন। নিহতের পরিবারের বরাত অনুযায়ী, মিলন ছিলেন দায়িত্বশীল, পড়াশোনায় মনোনিবেশী এবং সমাজসেবামূলক কাজেও সক্রিয়।
মিলন রহমান বুরাইল হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র এবং দেলবুর রহমানের সন্তান। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, হত্যার মূল কারণ প্রায় এক মাস আগে একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিরোধ শুরু হয়। মিলনের প্রতিবেশী নাবির শেখ ও বীরপালির শামীমের মধ্যে একটি তুচ্ছ বিতর্ক তখন শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার দিন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শামীম তার শ্বশুরবাড়ি যাত্রাকালে নাবির শেখকে পুনরায় দেখতে পান। পূর্বের বিরোধ মনে করে শামীম কয়েকজন আত্মীয়সহ রাতের আঁধারে মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটো রিকশার মাধ্যমে বুরাইলে ফিরে আসে। তারা নাবিরকে খুঁজে না পেয়ে মিলন রহমানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ১০–১৫ জনের একটি দল মিলনের উপর হঠাৎ এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তীক্ষ্ণ অস্ত্র দ্বারা তাকে একাধিক বার আঘাত করা হয়। পরে তাকে দ্রুত শাহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন।
নন্দীগ্রাম থানা অফিসার ইন চার্জ মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে হত্যার সঙ্গে পূর্ববর্তী ফুটবল বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের টিম সক্রিয়ভাবে সব সম্ভাব্য সূত্র অনুসন্ধান করছে এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” মিলনের দেহ হাসপাতালের মরচে রাখা হয়েছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য।
বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন ঘটনার প্রতি শোক প্রকাশ করে বলেন, “মিলন আমার প্রতিবেশী ছিল। ফুটবল বিতর্কে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হওয়া দুঃখজনক। দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
| তারিখ ও সময় | ঘটনা | স্থান | মূল ব্যক্তিবর্গ |
|---|---|---|---|
| প্রায় এক মাস আগে | ফুটবল-বিরোধ ও সংঘর্ষ | বীরপালি–বুরাইল | শামীম, নাবির শেখ |
| বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা | শ্বশুরবাড়িতে শামীমকে নাবিরের হামলা | বুরাইল | শামীম, নাবির শেখ |
| বৃহস্পতিবার রাত ১১:০০ | মিলন রহমানের ছুরিকাঘাত | বুরাইল মসজিদ সংলগ্ন | মিলন রহমান, শামীম, ১০–১৫ হামলাকারী |
স্থানীয় সম্প্রদায় এখনও শোকাহত এবং আতঙ্কিত। পুলিশ পুরো ঘটনা তদন্ত করছে, যাতে দোষীদের আইনের আওতায় আনা যায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
মন্তব্য