ব্যাংক এশিয়ার ১০০০ কোটি টাকার টেকসই বন্ড ইস্যু ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ পরিস্থিতি

দেশের পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে গুরত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন ও আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক এশিয়া ১ হাজার কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি লিন্ডে বিডি, আইডিএলসি এবং জনতা ইনস্যুরেন্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের লভ্যাংশ ও প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করেছে।

ব্যাংক এশিয়ার টেকসই বন্ড ইস্যুর বিস্তারিত

ব্যাংক এশিয়া তাদের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১ হাজার কোটি টাকার একটি পরিবেশবান্ধব টেকসই বন্ড (Green Sustainable Bond) ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বুধবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৫৮৪তম পর্ষদ সভায় এই প্রস্তাবনা অনুমোদিত হয় এবং বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে তা অবহিত করা হয়েছে।

বন্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. ধরন ও রূপান্তরযোগ্যতা: এটি একটি অ-রূপান্তরযোগ্য (Non-convertible) বন্ড। অর্থাৎ, এই বন্ডের বিপরীতে কোনো সাধারণ শেয়ার ইস্যু করা হবে না এবং এটি শেয়ারে রূপান্তরিত হবে না।

২. জামানত: এই বন্ডটি হবে অনিরাপদ বা আনসিকিউরড (Unsecured), অর্থাৎ এর বিপরীতে নির্দিষ্ট কোনো স্থাবর সম্পত্তি জামানত হিসেবে থাকবে না।

৩. মেয়াদ ও মুনাফা: বন্ডটির পূর্ণ মেয়াদ হবে ৭ বছর। এর মুনাফার হার নির্ধারিত হবে ফ্লোটিং রেট বা পরিবর্তনশীল হারের ভিত্তিতে।

৪. উদ্দেশ্য: ব্যাসেল-৩ (Basel-III) এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যাংকের টিয়ার-২ (Tier-II) রেগুলেটরি ক্যাপিটাল বা সম্পূরক মূলধন শক্তিশালী করা। এছাড়া সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই বন্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে ছাড়া হবে। এছাড়া ব্যাংক এশিয়া তাদের জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ প্রান্তিকের বোর্ড সভার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছে। সভাটি ১০ মে’র পরিবর্তে ১২ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।

লিন্ডে বিডি ও আইডিএলসির আর্থিক সাফল্য

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। নিচে প্রধান কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স ছক আকারে তুলে ধরা হলো:

জানুয়ারি-মার্চ (২০২৬) প্রান্তিকের আর্থিক তুলনামূলক চিত্র

প্রতিষ্ঠানের নামবর্তমান ইপিএস (টাকা)আগের বছর একই সময়ে ইপিএস (টাকা)প্রবৃদ্ধির কারণ
লিন্ডে বাংলাদেশ৭.২২৫.২৯বিক্রি বৃদ্ধি ও পরিচালন ব্যয় হ্রাস
আইডিএলসি ফাইন্যান্স১.৪৩১.১৭ঋণ ও অগ্রিম থেকে নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি
জনতা ইনস্যুরেন্স০.২৯০.২৬ব্যবসায়িক কার্যক্রমের স্থিতিশীলতা

জনতা ইনস্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

জনতা ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত বছরের জন্য শেয়ারধারীদের বিনিয়োগের বিপরীতে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) সামান্য বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির আর্থিক সক্ষমতা ও নিট সম্পদ মূল্যের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

বহুজাতিক কোম্পানি লিন্ডে বাংলাদেশের অবস্থান

লিন্ডে বাংলাদেশ তাদের আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের উল্লম্ফন প্রত্যক্ষ করেছে। কোম্পানিটির তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় তাদের শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAVPS) দাঁড়িয়েছে ২১৭ টাকা ৫৩ পয়সা। মূলত দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বাজারে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটি এই সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

একইভাবে আইডিএলসি ফাইন্যান্স তাদের সমন্বিত আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে, যা দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার একটি ইঙ্গিত প্রদান করে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বিনিয়োগকারীরা এই আর্থিক প্রতিবেদনগুলোকে বাজারের আগামী দিনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করছেন।