মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতারা দলের মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তারের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের নাম ও পদ নিম্নরূপ:
| জেলা/উপজেলা | পদ | নাম |
|---|---|---|
| শিবচর উপজেলা বিএনপি | যুগ্ম আহ্বায়ক | সাজাহান মোল্লা সাজু |
| শিবচর উপজেলা বিএনপি | সদস্য | মাহবুব মাদবর |
| শিবচর উপজেলা বিএনপি | সদস্য | শামীম চৌধুরী |
| শিবচর উপজেলা বিএনপি | সদস্য | ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান |
| শিবচর পৌর বিএনপি | যুগ্ম আহ্বায়ক | পান্নু গোমস্তা |
| শিবচর পৌর বিএনপি | সদস্য | সাইদুজ্জামান নাসিম |
| শিবচর পৌর বিএনপি | সদস্য | আলমগীর হোসেন |
| শিবচর পৌর বিএনপি | সদস্য | মোস্তফা মোল্লা |
| শিবচর পৌর বিএনপি | সদস্য | কুদ্দুস মোল্লা |
| জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল | যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক | তুমন চৌধুরী |
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সবাইকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া মুঠোফোনে জানান, শিবচরের পাশাপাশি মাদারীপুর-২ (সদর-রাজৈর) আসনেও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে সেখানে আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার) আসনে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় আপাতত বহিষ্কারের সম্ভাবনা নেই।
পলিটিক্যাল বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দলের শৃঙ্খলা দৃঢ় রাখা এবং মনোনীত প্রার্থীর প্রতি দলের ঐক্য নিশ্চিত করা। শিবচর এলাকায় বিএনপির দুটি বিদ্রোহী প্রার্থী সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনাগুলো সমাধান না করলে তা ভোট প্রভাবিত করতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে।
এছাড়া, বহিষ্কৃত নেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত বা অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
