বাংলাদেশের কর্পোরেট খাতে বিদেশি তহবিলের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা অর্থনীতিবিদ এবং বাজার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ মাত্র ৯.৮০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হ্রাস ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোর সতর্ক মনোভাবের প্রতিফলন এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের মধ্যভাগ থেকে বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে। ২০২৩ সালের মে মাসে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩.৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চ ২০২৫-এ ১০.১৩ বিলিয়ন ডলারে কমে আসে এবং নভেম্বর ২০২৫-এ পৌঁছায় ৯.৮০ বিলিয়ন ডলার।
স্বল্পমেয়াদি কর্পোরেট বিদেশি ঋণের ধারা (বিলিয়ন মার্কিন ডলার)
| মাস / বছর | স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ (বিলিয়ন USD) |
|---|---|
| মে ২০২৩ | 13.95 |
| জানু ২০২৫ | 9.80 |
| মার্চ ২০২৫ | 10.13 |
| জুন ২০২৫ | 10.22 |
| নভেম্বর ২০২৫ | 9.80 |
| ডিসেম্বর ২০২৫* | 9.85 |
*প্রক্ষেপিত
হ্রাসের পিছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে। শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং আগস্ট ২০২৪-এ সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বৃদ্ধি বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
ঋণ প্রদানকারী দেশের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম স্থানে, যেখানে বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১.৭১ বিলিয়ন ডলার, এরপর আসে সিঙ্গাপুর (১.৬৪ বিলিয়ন), চীন (০.৯৩ বিলিয়ন), হংকং (০.৭৭ বিলিয়ন) এবং যুক্তরাজ্য (০.৫২ বিলিয়ন)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বলেন, “বিদেশি ঋণের হ্রাস দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে কিছুটা চাপ হ্রাস করতে পারে। তবে রেমিট্যান্সের রেকর্ড পরিমাণ প্রবাহ ইতিমধ্যেই বৈদেশিক মুদ্রা মজুদকে শক্তিশালী করেছে।”
বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রিজের (BCI) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, “অবিরাম বিদ্যুৎ ঘাটতি, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং উচ্চ সুদের হার ব্যবসাগুলোর উৎপাদন অর্ধেক পর্যন্ত বজায় রাখা কঠিন করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশি ঋণের হ্রাস কোনোভাবে আশ্চর্যজনক নয়।”
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, স্বল্পমেয়াদি কর্পোরেট ঋণের হ্রাস সাময়িকভাবে ব্যালেন্স অফ পেমেন্টের চাপ হ্রাস করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি তহবিলের প্রবাহের সংকোচন বেসরকারি খাতে-led অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষত এমন সময়ে, যখন অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
