খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৫ এএম

টসে শুরুর আগেই দুই অধিনায়ক স্পৃষ্ট করে দেন, উইকেট আজ ব্যাটসম্যানদের জন্য মোটেও স্বস্তির নয়। তবু শ্রীলঙ্কা ব্যাটিং শুরু করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ওপেনার কামিল মিশারা এমনভাবে স্ট্রোক খেলছিলেন যে মনে হচ্ছিল দলটি ১৬০–১৭০-এর মতো লড়াকু সংগ্রহ গড়ে ফেলবে। কিন্তু ১০ ওভার পার হতেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে শুরু করে পাকিস্তানের স্পিন–ঝড়।
মাঝের ওভার থেকে যেন স্পটলাইট চলে আসে তিন স্পিনারের দিকে। মোহাম্মদ নেওয়াজ ছিলেন সেই ঝড়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু। স্কিডার, অ্যাঙ্গেল, টার্ন—সব মিলিয়ে তিনি শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের ছন্দ ভেঙে দেন। তার ৪ ওভারের জাদুতে মাত্র ১৭ রান খরচে ৩ উইকেট শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে ফেলে। সঙ্গে আবরার আহমেদের রহস্যময় লেগ স্পিন ও সাইম আইয়ুবের সঠিক লাইন–লেংথ শ্রীলঙ্কাকে এমনভাবে চেপে ধরে যে দলটি ২০ ওভারও খেলতে পারে না। ১১৪ রানের বেশি যেতে না পারা তাই অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।
ছোট লক্ষ্য হলেও পাকিস্তান সতর্ক ছিল শুরু থেকেই। কারণ ইনিংস বিরতির ঠিক আগেই নেওয়াজ বলে দিয়েছিলেন—‘উইকেটে স্পিনারদের জন্য অনেক কিছু আছে।’ দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও অপর ওপেনার শুরুতে দেখেশুনে খেললেও দ্রুত রান তোলেন। তবুও যখন মাঝের ওভারে রত্নানায়েকে ও হাসারাঙ্গার স্পিনে হালকা ধাক্কা আসে, তখন প্রয়োজন ছিল স্থির মাথার। আর সেখানেই সামনে আসেন বাবর আজম। তাঁর ৩৪ বলে অপরাজিত ৩৭ রানের ইনিংস সতর্কতা ও জবাবদিহির নিখুঁত মিশ্রণ।
১৮.৪ ওভার পেরিয়ে যখন জয়ের ছক্কা আসে, তখন পাকিস্তানি শিবিরে শুরু হয় শিরোপা উদযাপন। স্পিনেই ম্যাচ জেতা দলটির আজকের সত্যিকার নায়ক নিঃসন্দেহে নেওয়াজ। শ্রীলঙ্কার একমাত্র লড়াই ছিল মিশারার ৫৯ রানের ইনিংস, যা দলকে বড় স্কোর বানানোর স্বপ্নই শুধু দেখাতে পেরেছিল।
মন্তব্য