রাতের পথে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, তদন্তে পুলিশের একাধিক দল
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ৩:৪৬ পিএম
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে মাসুদ নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন তিনি। পরদিন সকালে রাস্তার পাশ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার পেছনের কারণ এখনও স্পষ্ট না হলেও জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।
নিহত মাসুদ (৪৮) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং লাল মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এলাকায় তিনি পরিচিত একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পারিবারিক সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন মাসুদ। দোকান থেকে বাড়ির দূরত্ব খুব বেশি না হলেও গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তারা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালান, কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাননি।
রোববার সকালে স্থানীয় কয়েকজন পথচারী বাড়ি ও দোকানের মাঝামাঝি একটি সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় একজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে তারা মাসুদকে শনাক্ত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মাথার পেছনে এবং কানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার পর মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, ব্যবসাসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় রেখে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ঘটনার সময় ওই এলাকায় কারা চলাচল করেছে, সেটিও যাচাই করার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা যায়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে এলাকায় মানুষের নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসবে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য