খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫২ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নবজাতকের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একটি অ্যাম্বুলেন্স সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাছবোঝাই পিকআপ ভ্যানে ধাক্কা দিলে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিনজন আহত হন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৃষ্টিতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
আহতরা হলেন নবজাতকের চাচা আমির হোসেন, দাদি সুফিয়া খাতুন এবং নানি বিউটি বেগম। তাঁদের সবার বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায়। দুর্ঘটনার সময় আমির হোসেন চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসে আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোনাগাজীর একটি হাসপাতালে নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সকালে প্রথমে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোববার সকালে হাসপাতালেই নবজাতকটির মৃত্যু হয়।
এরপর স্বজনেরা শিশুটির মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ বাড়ি সোনাগাজীতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের জন্য যাত্রাটি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্তু সেই ফেরার পথেই ঘটে আরেকটি দুর্ঘটনা। ফলে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর নেমে আসে নতুন বিপর্যয়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো. আক্তার হোসেন জানান, চট্টগ্রাম দিক থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সটি তুলনামূলক দ্রুতগতিতে চলছিল। দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় পৌঁছানোর পর এটি সামনে থাকা মাছবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ভেতরে থাকা তিনজন আহত হন।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় নবজাতকের মা মনোয়ারা বেগমও অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন। সম্প্রতি সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেও তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছেন, যা পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আফসার বলেন, সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পিচ্ছিল হয়ে ছিল। দক্ষিণ বাইপাসের ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা পিকআপ ভ্যানের পেছনে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রতিকূল আবহাওয়া ও পিচ্ছিল সড়ককে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্ষাকালে মহাসড়কে যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃষ্টির সময় সড়কের ঘর্ষণক্ষমতা কমে যাওয়ায় ব্রেকিং দূরত্ব বেড়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে রোগী বা মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি যানবাহনের ক্ষেত্রে নিরাপদ গতি বজায় রাখা এবং সড়কের পরিস্থিতি বিবেচনায় চালানো দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য