হাবিবুর রহমানের দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এক ম্যাচে ব্যাট হাতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন লিজেন্ড অব রূপগঞ্জের ব্যাটসম্যান হাবিবুর রহমান। ইউল্যাব মাঠে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে মাত্র ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি বাংলাদেশের ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির একক মালিকানা অর্জন করেন। এর আগে এই রেকর্ড যৌথভাবে তারই দখলে ছিল এবং একই সঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গেও ভাগাভাগি ছিল, যিনি ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।

মাত্র ছয় দিন আগে একই খেলোয়াড় দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন। গত সপ্তাহে মোহামেডানের বিপক্ষে তিনি ১৫ বলে ফিফটি করেছিলেন, যেখানে এক ওভারে নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের বিপক্ষে দ্রুত রান তোলার নজিরও ছিল। তবে আজকের ইনিংসের শুরু ছিল তুলনামূলকভাবে ধীর। প্রথম ৯ বলে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৬ রান।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে তিনি প্রথম চার মারেন নিহাদ উজ জামানের বলে, পরের বলেই আসে ছক্কা। এরপর এক ওভার পর একই বোলারের বিরুদ্ধে ২২ রান তুলে নেন তিনি। ২৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর তার ব্যাটিং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পরবর্তী ১৯ বলে তিনি পরের ৫০ রান পূর্ণ করেন, যা তার ইনিংসকে দ্রুততম সেঞ্চুরির দিকে নিয়ে যায়।

তিনি ৫৮ বলে ১৩০ রান করে আউট হন। আউট হওয়ার আগে তার ইনিংসে ছিল ১৩টি ছক্কা এবং ৮টি চার। এই পারফরম্যান্স লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডের কাছাকাছি নিয়ে যায় তাকে, যেখানে ২০১৯ সালের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সৌম্য সরকারের ১৯ ছক্কা এখনো শীর্ষে রয়েছে।

২০২৩ সালের বিসিএলে তিনি ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা তখন বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির মধ্যে অন্যতম ছিল। চলতি মৌসুমে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মোসাদ্দেক হোসেন আবাহনীর হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা তার সঙ্গে তুলনার একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল।

হাবিবুর রহমান শুধু লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেই নয়, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও বাংলাদেশের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডধারী। গত বছর রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে হংকং চায়নার বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা সব সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরি হিসেবে বিবেচিত।

ইনিংস পরিসংখ্যান

বিষয়তথ্য
প্রতিপক্ষসিটি ক্লাব
মাঠইউল্যাব মাঠ
ফিফটি২৬ বলে
সেঞ্চুরি৪৫ বলে
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান১৩০
মোট বল৫৮
চার৮টি
ছক্কা১৩টি
আউটক্যাচ আউট

এই ইনিংসের মাধ্যমে হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেন, যেখানে তার আগের যৌথ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়।