জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪ পিএম

রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকায় একটি মাদ্রাসার বাথরুম থেকে ১২ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুটির নাম মো. নাঈম শেখ। পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসায় বেত দিয়ে মারধরের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিশুটি বাথরুমের শাওয়ারের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রায়েরবাগ জোড়াখাম্বা এলাকার রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি বাথরুম থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
কদমতলী থানার উপপরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বাথরুমের ভেতর শোয়ানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে বেতের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, শিশুটি শাওয়ারের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে একই সঙ্গে তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। এ কারণে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
এদিকে নাঈমের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তার মা নাজমা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা। জরুরি বিভাগের স্ট্রেচারে সন্তানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নিহতের মা অভিযোগ করেন, তার সন্তান আত্মহত্যা করতে পারে না। তিনি নাঈমের হাঁটুর নিচে থাকা আঘাতের দাগ দেখিয়ে দাবি করেন, শিশুটিকে মারধর করা হয়েছে। তার ভাষ্য, ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলে শরীরের নির্দিষ্ট একটি স্থানে দাগ থাকার কথা, কিন্তু তার সন্তানের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার দাবি করেন।
নাঈমের মামা সুমনও অভিযোগ করেন, তার ভাগনে মাদ্রাসায় হেফজ পড়ত। ঘটনার আগের দিন মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তাকে বেত দিয়ে মারধর করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। ওই মারধরের পরই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
পরিবারের অভিযোগ এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুটির শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, বাথরুমে কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে কেউ কোনো ধরনের আচরণ করেছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নাঈমের বাবা বাবু শেখ পেশায় রিকশাচালক। দুই ভাইয়ের মধ্যে নাঈম ছিল বড়। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য