খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪০ এএম

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকায় এক বিশেষ সংগীতসন্ধ্যার আয়োজন করা হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘বাঁধন আছে প্রাণে প্রাণে’। এই আয়োজন করে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস এবং এইচ এস বি সি ব্যাংক। রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দুই বাংলার খ্যাতনামা দুই শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য এবং অদিতি মহসিন একক ও যুগল পরিবেশনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী আবহে সাজানো। সবুজ ঘাসের ওপর অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে উন্মুক্ত মঞ্চ গড়ে তোলা হয়। চারপাশে ছিল নান্দনিক আলোকসজ্জা এবং দর্শক-শ্রোতাদের পোশাকে ফুটে ওঠে নববর্ষের আনন্দ। পুরো আয়োজনটি এক শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপ নেয়।
আয়োজনের শুরুতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং এইচ এস বি সি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব উর রহমান। তাঁরা নববর্ষের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য, মানবিক মূল্যবোধ এবং দুই দেশের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরেন। প্রণয় ভার্মা বলেন, নববর্ষ আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। মাহবুব উর রহমান বলেন, তারা স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারে সহায়তা করে থাকেন।
এরপর শুরু হয় সংগীত পরিবেশনা। প্রথমে মঞ্চে আসেন অদিতি মহসিন। তিনি রবীন্দ্রসংগীত এবং অন্যান্য ভক্তিগীতির মাধ্যমে পরিবেশনা শুরু করেন। তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় শান্তি ও মানবিকতার আহ্বান। তিনি রজনীকান্ত সেনের ‘তুমি নির্মল করো’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’, ‘তুমি ডাক দিয়েছ কোন সকালে’, ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘আজি নূতন রতনে ভূষণে যতনে’, ‘বিপুল তরঙ্গ’, ‘ও যে মানে না মানা’ এবং ‘যাব না যাব না ঘরে’ পরিবেশন করেন। পরে স্বদেশচেতনার গান ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে’ পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁর একক অংশ শেষ হয়।
এরপর মঞ্চে আসেন শ্রীকান্ত আচার্য। তিনি আধুনিক বাংলা গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত এবং চলচ্চিত্রের গান পরিবেশন করেন। তাঁর পরিবেশনায় ছিল ‘কেন দূরে থাকো’, ‘চলো এখনো সময় আছে’, ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা’, ‘মনে কি দ্বিধা রেখে গেলে’, ‘মেয়েটা ছিল সদ্য ফোটা’, ‘সারাটা দিন মেঘলা আকাশ’, ‘আমি খোলা জানালা তুমি দখিনা বাতাস’ এবং ‘তোমারই আঁখির মতো আকাশের দুটি তারা’। তিনি প্রয়াত বন্ধু কিংশুক এবং কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যকে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে দুই শিল্পী একসঙ্গে মঞ্চে এসে নববর্ষের প্রতীকী গান ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশন করেন। এই পরিবেশনার মাধ্যমে পুরো সন্ধ্যার পরিপূর্ণতা আসে। এরপর তাঁরা ‘সেই ভালো সেই ভালো’ গান পরিবেশন করেন, যা দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে গভীর সাড়া ফেলে।
পরদিন একই স্থানে একই শিরোনামে আরেকটি সংগীতসন্ধ্যার আয়োজন করা হয়, যেখানে নতুন কিছু গান পরিবেশিত হয় এবং আরও কয়েকজন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
| পর্ব | শিল্পী | পরিবেশিত গান | বিশেষ দিক |
|---|---|---|---|
| উদ্বোধন | প্রণয় ভার্মা ও মোহাম্মদ মাহবুব উর রহমান | বক্তব্য | নববর্ষ ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক |
| প্রথম অংশ | অদিতি মহসিন | রবীন্দ্র ও ভক্তিগীতি, স্বদেশচেতনার গান | শান্তি ও মানবিকতা |
| দ্বিতীয় অংশ | শ্রীকান্ত আচার্য | আধুনিক, রবীন্দ্র, নজরুল ও চলচ্চিত্র গান | স্মৃতিচারণ |
| যুগল পরিবেশনা | অদিতি ও শ্রীকান্ত | এসো হে বৈশাখ, সেই ভালো সেই ভালো | নববর্ষের মিলনমেলা |
| পরবর্তী আয়োজন | উভয় শিল্পী ও অতিথি | নতুন গান পরিবেশনা | দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান |
এই আয়োজন দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধন, সুরের ঐক্য এবং নববর্ষের আবহকে একত্র করে এক অনন্য সংগীতময় সন্ধ্যা উপহার দেয়।
মন্তব্য