জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১০:০ পিএম

জুন ও জুলাই মাসের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সারা দেশের গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক সাধারণ গ্রাহকের দাবি, পূর্বের তুলনায় নতুন কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যুক্ত না হওয়া বা ব্যবহার বৃদ্ধি না পাওয়া সত্ত্বেও হঠাৎ করেই তাঁদের বিল স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি এসেছে। কোনো কোনো অঞ্চলে অতিরিক্ত বিল তৈরির এই ঘটনা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের এই ক্ষোভ ও সামাজিক অসন্তোষের মুখে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বিদ্যুৎ বিভাগের তরফ থেকে জানানো হয়, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং বিদ্যুৎ খাতের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিল সংক্রান্ত মনগড়া ও অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছে। মূলত এই প্রেক্ষাপটেই সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিশেষ স্পষ্টিকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যে ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা মোটেও বস্তুনিষ্ঠ নয়। বিদ্যুৎ বিভাগ এসব ভিত্তিহীন তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সাথে সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, এর আগে জুন ও জুলাই মাসের বিল সংক্রান্ত যেসব সুনির্দিষ্ট ভুল বা অসংগতির লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল, বিতরণ সংস্থাগুলো সেগুলোর প্রতিটি তদন্ত করে যথাযথ সমাধান নিশ্চিত করেছে। ফলে বিল নিয়ে বর্তমানে নতুন করে ভ্রান্তি বা অপপ্রচার ছড়ানোর কোনো যুক্তিসংগত সুযোগ নেই।
বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে সাধারণ বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান—সবক্ষেত্রেই ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পায়। এর ফলে অসচেতনভাবেই ইউনিট প্রয়োগের হার বেড়ে গিয়ে বিলের পরিমাণ বেশি হতে পারে। তবে এর বাইরেও যদি কোনো প্রযুক্তিগত কিংবা মিটার রিডিং সংক্রান্ত মানবিক ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত বিল তৈরি হয়, তবে তা দ্রুত সংশোধনের সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম রয়েছে।
মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, গ্রাহকসেবা প্রদানই কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য। অতএব, কোনো বিদ্যুৎ গ্রাহকের যদি নিজের বিল নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সংশয় বা আপত্তি থাকে, তবে তিনি প্রয়োজনীয় দলিল বা প্রমানসহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত আবেদন জমা দিতে পারেন। প্রতিটি আবেদন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে এবং সত্যতা মিললে দ্রুত বিল সংশোধন করে গ্রাহককে স্বস্তি দেওয়া হবে।
তবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অভিযোগ দায়ের না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্যান্য কোনো মাধ্যমে কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উসকানি দিলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। কোনো প্রকার প্রমাণ বা সত্যতা ছাড়া অহেতুক গুজবের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাত এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হলে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য