জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৭ পিএম

সারাদেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষাগারে ল্যাব-নিশ্চিত হওয়া কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পক্ষ থেকে পাঠানো নিয়মিত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এসব হালনাগাদ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৪৭ জনে। মৃতদের শ্রেণিবিন্যাস করলে দেখা যায়, চিকিৎসাতাত্ত্বিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৬ জন। অন্যদিকে, রোগ নির্ণয়ের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা সম্পন্ন না হলেও রোগের স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭৫১ জন রোগী।
সবশেষ খবর অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আঞ্চলিক ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে সিলেট বিভাগের হাসপাতালে ২ জন এবং ঢাকা বিভাগে ১ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত একদিনে সারাদেশে নতুন করে ১১৩ জনের শরীরে হামের সুনির্দিষ্ট উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে চলতি বছরে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪০৮ জনে।
একই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে ৯৬৭ জনের শরীরে তীব্র জ্বর ও ত্বকে লালচে দানার মতো হামের প্রাথমিক উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়েছে। নতুন এই রোগীদের হিসাব যুক্ত করে চলতি মৌসুমে মোট সন্দেহভাজন বা উপসর্গযুক্ত আক্রান্তের সংখ্যা এসে ঠেকেছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০ জনে।
চিকিৎসকদের মতে, অত্যন্ত সংক্রামক এই ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো সময়মতো বিসিজি ও এমআর টিকা গ্রহণ করা। শিশুরা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষেরাই এই ভাইরাসের সবচেয়ে বড় শিকার হয়। তাই লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই রোগীকে ঘরের পৃথক কক্ষে রাখা এবং দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মন্তব্য