হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আলোচনা ইরানে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাব্য একটি শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সোমবার (২৫ মে) জাপানের সংবাদপত্র ‘নিক্কেই’ মধ্যপ্রাচ্যের একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে সম্ভাব্য সময়সূচি এবং শর্তাবলির একটি কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে স্থাপিত মাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরু করবে। এই ধাপটি প্রণালির নিরাপত্তা পুনঃস্থাপনের জন্য প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাইন অপসারণ সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য প্রণালিটি পুনরায় নিরাপদ হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই পথ ব্যবহার করে অবাধে চলাচল করতে পারবে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।

একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবহার নিয়ে ভবিষ্যতে ইরান কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি আরোপ করবে না। এর ফলে প্রণালিটির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল শুল্ক বা অতিরিক্ত ফি ছাড়াই সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এই প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে, প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আরও জানানো হয়েছে যে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনা ভবিষ্যৎ কোনো সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী একটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সময় উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ফলে এই পথের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক বহু বছর ধরেই পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু এবং সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে জটিল অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এবং সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছায়নি বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, মাইন অপসারণ এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার আলোচনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।