খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম

হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল সড়ক এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের কয়েকজন নেতা–কর্মী। তবে ঘটনা ঘটে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও, কিছুক্ষণ পর একদল তরুণ ও যুবক কার্যালয়ের মূল ফটকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই সময় কার্যালয়ে কোনো নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেলা ১১:৩০টার দিকে সদর ও পৌর আওয়ামী লীগের কিছু নেতা–কর্মী আকস্মিকভাবে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তাঁরা জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং স্লোগান দেন। প্রায় ১০ মিনিট পর তারা স্থান ত্যাগ করেন।
এক স্থানীয় নেতা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, প্রথম আলোকে বলেন, “সব ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবে।”
দুপুর ২টার দিকে একদল যুবক জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং মূল ফটকে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাত্ক্ষণিকভাবে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি না হলেও, প্রায় দেড় বছর ধরে পড়ে থাকা ধ্বংসস্তূপে আগুনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চলে যাওয়ার পর শুনতে পাই, কে বা কারা আগুন দিয়েছে। পরে আগুন নিজে থেকেই নিভে যায়।”
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। ২০২৪ সালের আগস্টে আন্দোলনের সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও সাধারণ জনতা কয়েক দফা আগুন দিয়েছিলেন।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক আগুন ও পতাকা উত্তোলনের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেখানো হলো:
| তারিখ | ঘটনা | ক্ষয়ক্ষতি | উপস্থিত নেতা/কর্মী |
|---|---|---|---|
| ২০২৬-০২-১৮ | পতাকা উত্তোলন | নেই | জেলা ও পৌর নেতা–কর্মী |
| ২০২৬-০২-১৮ | মূল ফটকে আগুন | সামান্য | কেউ উপস্থিত ছিলেন না |
| ২০২৪-০৮ | আন্দোলনের সময় আগুন | উল্লেখযোগ্য | বিক্ষুব্ধ ছাত্র–জনতা |
হবিগঞ্জের বাসিন্দারা এ ধরনের অস্থির পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনা তদন্তের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিনের পতাকা উত্তোলন ও আগুনের ঘটনা একদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনা পূর্বের আগুনদগ্ধ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি প্রতিরূপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
মন্তব্য