সম্ভাব্য করের প্রতিবাদে এনবিআর কার্যালয়ে বাইকারদের সমাবেশ

মোটরসাইকেলের ওপর সম্ভাব্য নতুন কর আরোপের পরিকল্পনার প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। রবিবার রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের সামনে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভকারীরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনের সামনের সড়কে সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল রেখে কর আরোপের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান জানান। তাদের দাবি, মোটরসাইকেল এখন আর বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও অনেকের জীবিকা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এর ওপর নতুন কর আরোপ করা হলে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে এবং অনেকের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আগামী ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুনভাবে অগ্রিম আয়কর আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতেই ব্যবহারকারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেন।

পরে বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে তারা প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ না করার অনুরোধ জানান।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্ষমতার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন হারে অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিভিন্ন স্তরের ব্যবহারকারীদের ওপর আলাদা আলাদা আর্থিক চাপ তৈরি হবে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রস্তাবিত কর কাঠামো নিম্নরূপ:

মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্ষমতা (সিসি)প্রস্তাবিত বার্ষিক অগ্রিম আয়কর
১১১ থেকে ১২৫ সিসি২ হাজার টাকা
১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি৫ হাজার টাকা
১৬৫ সিসির বেশি১০ হাজার টাকা

বিক্ষোভকারীরা বলেন, এই ধরনের কর আরোপের ফলে দেশের বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ, সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন। তারা আরও জানান, মোটরসাইকেল বর্তমানে শুধু ব্যক্তিগত যাতায়াত নয়, অনেক ক্ষেত্রে পেশাগত পরিবহন ও আয়ের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি উপস্থাপন করেন এবং কর প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।