সমুদ্রে নোঙর জাহাজে বিদেশি ক্রু নিহত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের গভীর সমুদ্রে নোঙর করা একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে দুই ক্রুর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক থাইল্যান্ডের নাগরিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত রাত আটটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ব্যক্তির নাম রাফিফং কালাহান (৩০)। তিনি থাইল্যান্ডের নাগরিক এবং একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রু হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পিতার নাম সানইয়াপং কালাহান।

শিপিং এজেন্ট ও হাসপাতাল পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা উপকূলের গভীর সমুদ্রের চার্লি নোঙর এলাকায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করা অবস্থায় ছিল। ওই জাহাজে কর্মরত দুই বিদেশি ক্রুর মধ্যে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে এক ক্রু ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে রাফিফং কালাহানকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। জাহাজে থাকা অন্যান্য ক্রু ও শিপিং এজেন্ট দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন।

নিহত ক্রুর মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিচে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
নিহত ব্যক্তির নামরাফিফং কালাহান
বয়স৩০ বছর
নাগরিকত্বথাইল্যান্ড
কর্মস্থলবিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ
জাহাজের অবস্থানআনোয়ারা উপকূলের গভীর সমুদ্র, চার্লি নোঙর এলাকা
ঘটনার ধরনদুই ক্রুর মধ্যে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাত
সময়মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত রাত
চিকিৎসা স্থানচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বর্তমান অবস্থামৃতদেহ মর্গে রাখা আছে

প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, জাহাজটি নোঙর অবস্থায় থাকাকালীন অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে দুই ক্রুর মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। সেই মতবিরোধ দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং সংঘর্ষে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের ফলে একজন ক্রু মারাত্মকভাবে আহত হন, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সমুদ্রের নোঙর এলাকায় থাকা একটি জাহাজে সংঘটিত এ ঘটনার পর আহত অবস্থায় একজন বিদেশি নাগরিককে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট ও কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।