খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৫:২১ পিএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে সাহিদা বেগম (৬৮) নামে এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফ্ল্যাটের ভেতরের পরিস্থিতি দেখে পুলিশের ধারণা, অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, যাত্রাবাড়ীর দনিয়ার রসুলপুর এলাকার একটি সাততলা ভবনের সপ্তম তলার একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন সাহিদা বেগম। ওই ফ্ল্যাট থেকেই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি ফোন আসে। ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত রসুলপুরের ওই ভবনে যায়। সেখানে গিয়ে ফ্ল্যাটের মেঝেতে সাহিদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা দেখতে পান, ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। ফ্ল্যাটের ভেতরের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার আগে বা পরে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাহিদা বেগমের সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে তাঁর পুত্রবধূ শারমিন আক্তার থাকতেন। তবে ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। নিহতের একমাত্র ছেলে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।
শারমিন পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে তিনি কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে দেখতে পান, ফ্ল্যাটের দরজায় বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। পরে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে তিনি তাঁর শাশুড়িকে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি দেখার পর তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাসায় রাখা প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া সাহিদা বেগমের ব্যবহৃত স্বর্ণের কানের দুলও পাওয়া যায়নি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ ধারণা করছে, দুর্বৃত্তরা মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
তবে শুধু লুটপাটের বিষয়টিকেই একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছে না পুলিশ। হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত, তারা কীভাবে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছিল, ভুক্তভোগীর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ করছেন। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামতও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি লুটপাটের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর ধরন, আঘাতের বিস্তারিত এবং হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিহত সাহিদা বেগমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। তাঁর স্বামী শফিকুল ইসলাম আগেই মারা গেছেন। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতের পারিবারিক বিষয়, পরিচিতজন এবং সম্ভাব্য শত্রুতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ। রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ভেতরে এমন ঘটনায় স্থানীয়
মন্তব্য