খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৫:০ পিএম

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সমতাসূচক গোল ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটাতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। ম্যাচ চলাকালে অভিযোগ উঠেছিল, গোল হওয়ার আগে বলটি স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে থাকা ক্যামেরার তারে স্পর্শ করেছিল এবং সেই কারণেই বলের গতিপথ পরিবর্তিত হয়। তবে ফিফা জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ মেলেনি।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, বলের ভেতরে স্থাপিত বিশেষ সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট মুহূর্তে বলের গতিপথ পরিবর্তনের মতো কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়নি। ফলে বল ক্যামেরার তারে লেগেছিল—এমন দাবি সমর্থনের মতো কোনো তথ্য তাদের হাতে নেই।
হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জুড বেলিংহামের গোলে ১-১ সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। গোলটি হওয়ার পরই নরওয়ের খেলোয়াড়েরা ফরাসি রেফারি ক্লেমঁ তুরপিনের কাছে আপত্তি জানান। তাদের দাবি ছিল, আক্রমণের সূচনালগ্নে বলটি ওপরের ক্যামেরা তারে লেগে দিক পরিবর্তন করেছিল। সে ক্ষেত্রে খেলা থামিয়ে ড্রপ বল দেওয়াই ছিল নিয়মসম্মত সিদ্ধান্ত।
ঘটনার শুরু নরওয়ের গোলরক্ষক ইয়র্ন নিল্যান্ডের একটি গোল-কিক থেকে। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি আকাশে ভেসে যাওয়ার সময় হঠাৎ দিক বদলে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর সেই আক্রমণ থেকেই আসে বেলিংহামের সমতাসূচক গোল। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
ফিফা জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি বলের প্রতিটি স্পর্শ ও গতিবিধি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। বলের ভেতরে থাকা সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে একাধিকবার তথ্য পাঠায়। কোনো বস্তুতে বলের আঘাত লাগলে সেন্সরের সংকেতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন ধরা পড়ে। সংশ্লিষ্ট ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে এমন কোনো পরিবর্তন পাওয়া যায়নি।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, একই প্রযুক্তি চলতি টুর্নামেন্টের আগের এক নকআউট ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায়ও সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবারও প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে।
ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ৪৫+২ মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলের আগে বল বাতাসে থাকা অবস্থায় সেন্সরের তথ্যে কোনো অস্বাভাবিক ‘হার্টবিট’ বা সংকেতের পরিবর্তন ধরা পড়েনি। তাই বল ক্যামেরার তারে স্পর্শ করে গতিপথ বদলেছিল—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রযুক্তিগত বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলেই সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।
এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিতর্কের অবসান টানার চেষ্টা করেছে ফিফা। যদিও ম্যাচটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার মতে প্রযুক্তিগত তথ্য ইংল্যান্ডের সমতাসূচক গোলকে বৈধ বলেই সমর্থন করছে।
মন্তব্য