খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ও আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বিতর্ক, নাটকীয়তা এবং স্মরণীয় মুহূর্তে ভরপুর এই দুই দলের প্রতিটি বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ ফুটবল ইতিহাসে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। দিয়েগো ম্যারাডোনার কিংবদন্তি ‘হ্যান্ড অব গড’, ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত একক গোল কিংবা ডেভিড বেকহ্যামের বহুল আলোচিত লাল কার্ড—সব মিলিয়ে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক অধ্যায়।
এবার সেই ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি নতুন পর্ব। আগামী বুধবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে দুই দলই মাঠে নামবে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। ফলে এটি শুধু ফাইনালে ওঠার ম্যাচ নয়, বরং বহু বছরের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে ইংল্যান্ড পরিসংখ্যানের বিচারে কিছুটা এগিয়ে। এ পর্যন্ত পাঁচবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি। এর মধ্যে ইংল্যান্ড তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে। একটি ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনা জয় তুলে নেয় এবং আরেকটি ম্যাচ টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার পক্ষে নিষ্পত্তি হয়।
১৯৬২ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল। এরপর ১৯৬৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালেও ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংলিশরা। তবে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সেদিন ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং অবিশ্বাস্য একক প্রচেষ্টায় করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র সৌজন্যে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোর ম্যাচটিও ছিল নাটকীয়তায় ভরা। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত গোল এবং ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড দীর্ঘদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এরপর ২০০২ সালের গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড।
পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখলেও নকআউট পর্বের সবচেয়ে স্মরণীয় দুটি লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের ম্যাচটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে এখনও স্মরণ করা হয়।
দুই দলই এবার দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। সেই কারণে আগামী বুধবারের লড়াইয়ে অতীতের রেকর্ড যতই থাকুক, মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কে জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন সেই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণের দিকেই।
মন্তব্য