ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলমান আসরে লখনৌ সুপার জায়ান্টসকে পরাজিত করে প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে পাঞ্জাব কিংস। ঋষভ পান্তের নেতৃত্বাধীন লখনৌ সুপার জায়ান্টস বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে এবং টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায় ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে। অন্যদিকে, প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে গতকাল শনিবার লখনৌর মুখোমুখি হয় পাঞ্জাব। ম্যাচে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের দেওয়া ১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব কিংস ৭ উইকেট এবং ১২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে। এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ ম্যাচে বেশ কিছু দলীয় ও ব্যক্তিগত রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
পাঞ্জাব কিংসের জয় ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের অনন্য শতক
চলতি আসরের শুরুতে টানা ৬টি ম্যাচে জয় লাভ করে উড়ন্ত সূচনা করেছিল গতবারের রানার্সআপ পাঞ্জাব কিংস। তবে এর পরপরই দলটির পারফরম্যান্সে ছন্দপতন ঘটে এবং তারা টানা ৬টি ম্যাচে পরাজিত হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কার মুখে পড়ে। এক মৌসুমে টানা সর্বোচ্চ হারের রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও গতকালের জয়ের মাধ্যমে তারা সেই হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এর আগে ২০১৫ সালের আইপিএল আসরে পাঞ্জাব টানা সর্বোচ্চ ৭টি ম্যাচে পরাজিত হয়েছিল। লখনৌর বিপক্ষে ২০২৫ সালের আসর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪ বার মুখোমুখি হয়ে শ্রেয়াস আইয়ারের দল তিনটিতেই জয় লাভ করেছে।
পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার দলের এই জয়ে এবং হারের ধারাবাহিকতা ভাঙতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন। পাঞ্জাবের তৃতীয় কোনো অধিনায়ক এবং আইপিএলের ইতিহাসে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ অধিনায়ক হিসেবে সেঞ্চুরি বা শতক করার অনন্য কীর্তি গড়েন আইয়ার। তিনি মাত্র ৫১টি বল খেলে ১১টি চার এবং ৫টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১০১ রান করে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন। ২০২৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে পাঞ্জাবের সফল হওয়ার বেশিরভাগ ম্যাচেই বড় রান এসেছে এই অধিনায়কের ব্যাট থেকে।
লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে ভারতীয় এই তারকা ব্যাটার বরাবরই নিজের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। ২০২৪ সালের আইপিএল থেকে শুরু করে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬টি ইনিংসে তিনি ১৫৮.৬ গড় এবং ১৭৮.২ স্ট্রাইকরেটে মোট ৭৯৩ রান সংগ্রহ করেছেন। নিচে শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাটিং পরিসংখ্যান এবং ম্যাচের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচক ছকের সাহায্যে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রিকেটার ও রেকর্ডের বিবরণ | অর্জিত রান ও পরিসংখ্যান | ব্যাটিং সূচক ও ম্যাচের বিবরণ |
| শ্রেয়াস আইয়ার (গতকালের ম্যাচ) | ১০১ রান (অপরাজিত) | ৫১ বল, ১১টি চার, ৫টি ছক্কা |
| আইয়ারের লক্ষ্য তাড়ার রেকর্ড (২০২৪ থেকে) | ۷৯৩ রান (১৬ ইনিংস) | গড়: ১৫৮.৬, স্ট্রাইকরেট: ১৭৮.২ |
| এক আসরে দলীয় ২০০+ রান | ৯ বার (সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সাথে যৌথ রেকর্ড) | পাঞ্জাব কিংসের চলতি আসরের অর্জন |
দলীয় রান সংগ্রহ এবং সেঞ্চুরির নতুন পরিসংখ্যান
গতকালের ম্যাচে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের লক্ষ্য পার হয়ে পাঞ্জাব কিংস বরাবর ২০০ রান সংগ্রহ করে। এর মাধ্যমে চলতি এক আসরে সর্বোচ্চ নবম বারের মতো দলীয় দুইশ বা তার বেশি রান করার গৌরব অর্জন করল পাঞ্জাব। চলতি আসরেই সর্বোচ্চ ৯টি ম্যাচে দুইশ রান করার একক রেকর্ড গড়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, গতকাল সেই রেকর্ডে ভাগ বসাল পাঞ্জাব কিংস। চলমান আইপিএলে সর্বোচ্চ দলীয় ২০০ এবং ২২০ বা তার বেশি রান সংগ্রহের ক্ষেত্রে আগের সব আসরের রেকর্ড ইতিমধ্যেই ভেঙে গেছে।
চলতি আসরের ১৪তম সেঞ্চুরিটি এসেছে শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাট থেকে, যা যৌথভাবে আইপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির রেকর্ড। এর আগে ২০২৪ সালের আসরেও সমান ১৪টি সেঞ্চুরির কীর্তি দেখা গিয়েছিল এবং ২০২৩ সালের আসরে হয়েছিল ১২টি সেঞ্চুরি। যেহেতু চলতি আইপিএলের ফাইনালসহ আরও ৬টি ম্যাচ বাকি রয়েছে, তাই এক আসরে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডে বিগত সমস্ত আসরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
মোহাম্মদ শামির শীর্ষস্থান ও আর্শদীপ সিংয়ের খরুচে বোলিং
গতকালের ম্যাচে বোলিং বিভাগেও নতুন রেকর্ডের সৃষ্টি হয়েছে। আইপিএলের ইতিহাসে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার রেকর্ডে সবার শীর্ষে আরোহণ করেছেন ভারতীয় বোলার মোহাম্মদ শامي। তিনি এখন পর্যন্ত মোট ৬ বার ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট নেওয়ার এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এই তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ বার ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট নেওয়ার নজির রয়েছে জোফরা আর্চারের।
বিপারীত্যে, পাঞ্জাব কিংসের বাঁ-হাতি দ্রুতগতির বোলার আর্শদীপ সিং গড়লেন অত্যন্ত খরুচে বোলিংয়ের একটি বিব্রতকর রেকর্ড। তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হয়ে সর্বোচ্চ ৭টি ম্যাচে ৫০ বা তার বেশি রান খরচ করার নজির স্থাপন করলেন। গতকালের ম্যাচে তিনি ৩ ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট না পেয়ে ৫৭ রান প্রদান করেন। এর আগে পাঞ্জাবের হয়ে ৪ বার এমন খরুচে বোলিং করার রেকর্ড ছিল স্যাম কারানের, যাকে ছাড়িয়ে আর্শদীপ সিং এই তালিকার শীর্ষে পৌঁছালেন।