
দেশজুড়ে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের মতো উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে অথবা হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ হাম পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও একজন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৯০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৬০৬ জনের মধ্যে হামের মতো উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে এক দিনে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৬৯৬ জন।
দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে চলা এই সংক্রমণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৩ হাজার ৫০০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ বা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৪ হাজার ৩৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ৯০ হাজার ৬০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে এখনো অনেক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
দেশে চলমান হামের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাসতন্ত্র থেকে বের হওয়া ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিশুদের মধ্যে টিকার ঘাটতি এবং অপুষ্টির মতো বিষয়গুলো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক দুর্বলতা বাড়তে পারে এবং জটিলতা তৈরি হলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা বা অন্যান্য গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ। শিশুর নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সংক্রমণ থেকে রক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অসুস্থ শিশুকে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা, আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের শিশুদের টিকার তথ্য যাচাই, অসুস্থ শিশুকে আলাদা রাখা এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া এই ধরনের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
> বন্যায় চট্টগ্রামের মৎস্যখাতে ক্ষতি ৯১ কোটি টাকা
> গোল সমান, তবুও গোল্ডেন বুটে এগিয়ে এমবাপ্পে
> যাত্রাবাড়ীতে ফ্ল্যাটে বৃদ্ধার রক্তাক্ত মরদেহ, সন্দেহ লুটপাটের
> হামে এক দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৬৯৬
> বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চার চ্যাম্পিয়নের লড়াই
> ১২ জুলাইয়ের মুদ্রা বিনিময় হার: ডলার ১২২.৮৫ টাকা
> ইংল্যান্ডের গোল বিতর্কে ফিফার ব্যাখ্যা
> সংস্কার মূল্যায়নে আইএমএফের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> ডিএনডি লেকে দুই কিশোরের মৃত্যু
> একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই
> ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা
> ইসরায়েল থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে সৌদি ও কাতার
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য