খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৪ এএম
ঢাকার সাভারে ভয়াবহ সাপের কামড়ে ছয় বছর বয়সী শিখা মনি নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্যাংক টাউনের নামা গেন্ডা বটতলা এলাকায় বাড়ির পাশের ঘাসে খেলতে গিয়ে সাপ তাকে কামড় দেয়। শিশুটি আহত হওয়ার পর স্বজনরা তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু জরুরি অ্যান্টিভেনমের (সাপের ভ্যাকসিন) অভাবে তার জীবন রক্ষা সম্ভব হয়নি।
শিখা মনি সাভারের নামা গেন্ডা বটতলা এলাকার দুবাই প্রবাসী জহুরুল ইসলামের কন্যা। শিশুটির মা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। সাপের কামড়ে আহত শিশুটিকে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসক শুধুমাত্র সাধারণ ওষুধ প্রয়োগের পর দুই বেলার মধ্যে সুস্থ হওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু শিশুর অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে এগোতে থাকে।
পরবর্তী সময়ে শিশুকে নেয়া হয় সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া জরুরি। যানজট ও সময়ের তাড়াতাড়িতে অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নি। পরে মহাখালীতে নেওয়া হলেও একই অবস্থা—ভ্যাকসিন নেই। অবশেষে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের নানী শাহনাজ বেগম জানান, “আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের একমাত্র কন্যা শিখা মনি আজ অন্য শিশুর সঙ্গে খেলার সময় সাপের কামড়ে আহত হয়েছে। এত বড় দেশে অ্যান্টিভেনমের অভাব দেখে আমরা স্তম্ভিত। তার মায়ের প্রতি দৃষ্টি রেখেই তার জীবনের শেষ সময়টি কেটেছে।”
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লাশ মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
এই ঘটনা সাভার ও ঢাকার হাসপাতাল ব্যবস্থার দুর্বলতার দিকে একবারে সচেতনতার আলো ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রত্যেক হাসপাতালেই জরুরি অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যাতে এমন করুণ মৃত্যু ভবিষ্যতে এড়ানো যায়।
মন্তব্য