নেপালের বিপক্ষে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের আগের ভোরে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার শিউলি আজিম পারিবারিক শোকের সংবাদ পান। গোয়ায় অবস্থানকালেই তিনি জানতে পারেন, তাঁর মা বাসনা আজিম আর জীবিত নেই। কিডনি জটিলতায় মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
দলের ভেতরে এ খবর পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ নারী দলের নির্ধারিত সকাল সাতটার অনুশীলন বাতিল করা হয়। পুরো দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকে দিনের প্রথমার্ধে। পরে বিকেলের দিকে খেলোয়াড়রা কিছু সময়ের জন্য সমুদ্রপাড়ে যান, সেখানেই শিউলি আজিমও দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
দলের ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা যায়, শিউলিকে দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হয়। তবে গোয়া থেকে সরাসরি বা সংযোগ ফ্লাইটের জটিলতা এবং সময়স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত দেশে ফিরলেও মরদেহ দাফনের সময়ের মধ্যে তাঁর পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
দলের ম্যানেজার জানান, হিসাব অনুযায়ী শিউলির গোয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে অন্তত পরদিন দুপুর পর্যন্ত সময় লাগত। এরপর ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের কলসিন্দুরে পৌঁছাতে আরও কয়েক ঘণ্টা প্রয়োজন হতো। এ পরিস্থিতিতে মরদেহ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব না হওয়ায় পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিউলি আজিমকে ছাড়াই তাঁর মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের একজন প্রতিনিধি কলসিন্দুরে উপস্থিত থেকে পরিবারের পাশে অবস্থান করেন।
শিউলি আজিমের পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁর তিন ভাই ও এক বোন রয়েছে। ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার কলসিন্দুর এলাকার বাসিন্দা বাসনা আজিম দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মেয়েকে খেলাধুলায় প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই কলসিন্দুর অঞ্চল থেকেই একাধিক নারী ফুটবলার জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসে দেশের হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, শিউলি তাঁদেরই একজন।
ঘটনাপ্রবাহ বোঝার সুবিধার্থে সময়ক্রম নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| সময়/পর্যায় | ঘটনা |
|---|---|
| ভোর ৫টা | শিউলি আজিম মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পান |
| সকাল ৭টা | বাংলাদেশ দলের অনুশীলন বাতিল করা হয় |
| সকাল থেকে দুপুর | দেশে ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও ফ্লাইট জটিলতা দেখা দেয় |
| দুপুর পরবর্তী সময় | শিউলির অনুপস্থিতিতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় |
| বিকেল | খেলোয়াড়রা সমুদ্রপাড়ে যান, শিউলিও দলের সঙ্গে ছিলেন |
শিউলি আজিম এর আগে গোয়ায় এসে শারীরিক কারণে মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি। পরবর্তীতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি বদলি হিসেবে অংশ নেন। জাতীয় দলের এই সফরের মধ্যেই পারিবারিক এ শোকের ঘটনা ঘটে, যা দলের প্রস্তুতি ও সূচিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
