গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের অস্ত্র ও সামরিক বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। বুধবার (৮ অক্টোবর) স্পেনের সংসদে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়, যা ইউরোপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারের অনুমোদিত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
- ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ বা সামরিক প্রযুক্তি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ।
- ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জাম বা জ্বালানি বহনকারী জাহাজ ও বিমান স্পেনের বন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।
- ইতিমধ্যে কার্যকর থাকা অস্ত্র রপ্তানি অনুমোদনগুলোও স্থগিত করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে ইসরায়েলের সামরিক সরবরাহ চেইনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেল।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের বামপন্থি সরকার দীর্ঘদিন ধরেই গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের কঠোর সমালোচক। এর আগে সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
বুধবারের ভোটে বামপন্থি পোদেমোস দল সরকারের সঙ্গে একমত পোষণ করে। তবে রক্ষণশীল পপুলার পার্টি (PP) ও ডানপন্থি ভক্স দল (Vox) প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে।
পোদেমোস নেত্রী ইওনে বেলারা সংসদে বলেন, “সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান সব ধরনের অস্ত্র চুক্তি ও সামরিক সহযোগিতা বাতিল করা এখন সময়ের দাবি।”
অন্যদিকে স্পেনের অর্থমন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞা শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিক নীতির পক্ষে একটি শক্ত অবস্থান।”
রক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস উল্লেখ করেন, “আমরা ইতিমধ্যেই গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার দিন থেকেই ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করেছিলাম। আজকের ভোট সেই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় ও স্থায়ী করলো।”
স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মানবিক অবস্থান নেওয়া প্রথম সারির দেশগুলোর একটি। বিশ্লেষকদের মতে, মাদ্রিদের এই সিদ্ধান্ত অন্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোকেও একই পথে হাঁটার জন্য চাপের মুখে ফেলবে।
এদিকে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত স্পেনের এই সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এই পদক্ষেপে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও একপেশে” মন্তব্য করেছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর
